‘মা কালীর ওই রূপে খুব ভয় পেয়েছিলাম…’- বিয়ের পর প্রথম কালীপুজো! প্রথমবার একসঙ্গে ঠাকুর দেখার অপেক্ষায় শ্বেতা!

শৈশবের স্মৃতি, ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর জীবনের পালাবদল— তিনটে জিনিস একসঙ্গে মিলেমিশে আছে অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্যের বর্তমান জীবনে। ছোটপর্দায় তিনি এখন জনপ্রিয় মুখ, কিন্তু আলো-ঝলমলে পর্দার বাইরেও শ্বেতার জীবন ঠিক সাধারণ মেয়ে শ্বেতার মতোই। কালীপুজোর সকালেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো এক ঝাঁক ছবি পোস্ট করলেন তিনি, যেখানে দেখা গেল তাঁকে মা কালীর রূপে। কয়েক বছর আগে ‘নিম ফুলের মধু’ ধারাবাহিকের বিশেষ একটি পর্বের জন্য এই সাজ করেছিলেন তিনি। ছবিগুলো শেয়ার করতেই অনুরাগীরা ভরিয়ে দিলেন ভালোবাসা আর শুভেচ্ছায়।
আবেগভরা গলায় শ্বেতা বললেন, পুরোনো ছবি বা স্মৃতি তিনি কখনওই ফেলতে পারেন না। তাঁর কথায়, “যে ছবিগুলো শেয়ার করেছি, সেগুলো তোলা হয়েছে অনেক আগে, কিন্তু প্রত্যেকটা স্মৃতি আমার খুব প্রিয়। আজও আমি ধনতেরাস পালনে ভোল করি না। এখনও নিয়ম মেনে চোদ্দ শাক খাই, চোদ্দ প্রদীপ জ্বালাই। পরিবার নিয়ে বাজি পোড়ানো এখনও আলাদা আনন্দ দেয়।” সময় যতই এগোক, কিছু কিছু রীতি আর বিশ্বাসকে তিনি আঁকড়ে ধরে রাখতে চান।
এরই মধ্যে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তাঁর। প্রেমিক ও অভিনেতা রুবেল দত্তর হাত ধরে শ্বেতা বাগদান সারেন কিছুদিন আগে। সেই সূত্রে জীবনে এসেছে বারাসতের শ্বশুরবাড়ির পরিবার। আর সেই পরিবারের কালীপুজো স্থানীয় এলাকায় বেশ নামকরা। শ্বেতার কথায়, “রুবেলের বাড়ির সামনেই অসাধারণ পুজো হয়। এবার সেই পুজোর আনন্দটা কাছ থেকে উপভোগ করতে চাই। আগে দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতাম ঠিকই, কিন্তু কালীপুজোয় কখনও বিশেষ কোথাও যাওয়া হতো না। এই বছর তাই বারাসতে গিয়ে কয়েকটা পুজো দেখে আসার ইচ্ছে আছে।”
তবে বিশ্বাসের পথটা তাঁর জন্য সবসময় এত মসৃণ ছিল না। একসময় মা কালীর রূপ দেখে ভয় পেতেন শ্বেতা। মুখে একরাশ আন্তরিকতা নিয়ে জানালেন, “শৈশবে মা কালীর রাগী রূপ দেখে ভয় পেতাম। সবসময় মনে হতো মা রাগী, ভয়ংকর। কিন্তু যখন বারাসতের বড়মা দর্শনের সুযোগ পেলাম, তখনই আমার ভাবনা বদলাল। বড়মা যেন আমাকে হৃদয়ের শান্তি আর শক্তি দিয়েছেন। এ বছর ধনতেরাসে বড়মার জন্য একটা সোনার টিপ কিনেছি। নৈহাটি যেতে পারব না বলে বাড়ির ছবিতেই পুজো দেব।”
আরও পড়ুনঃ ফুলকির আসন্ন সন্তানের উপর বিপদ আসতেই অরণ্যর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলো রোহিত! ফাঁস আজকের দুর্ধর্ষ পর্ব!
শ্বেতা স্পষ্ট জানালেন, তিনি কখনও নিজের জন্য কিছু চান না। সবার আগে তাঁর প্রার্থনা পরিবারের জন্য। “মানুষ এত দূর থেকে মা দর্শন করতে আসে। আমরা হয়তো আলাদা লাইন পাই, কিন্তু কারও যেন কষ্ট না হয়। তাই বাড়িতেই পুজো দিই। যখন কষ্টে পড়ি, বড়মাকে বলি— তোমার কাছে এত মানুষ আসে, সবার ডাক শোনো, আর আমার কথাও একটু শোনো।” কথাগুলোতে ছিল এক অদ্ভুত শান্তি। আজ তিনি আর ভয় পান না। তাঁর বিশ্বাস, শক্তি, ভরসা— সবই আজ মা কালী আর বড়মাকে ঘিরে।
এ বার কালীপুজো শ্বেতার কাছে আলাদা। কারণ এই উৎসব জুড়ে আছে স্মৃতি, সম্পর্ক, পরিবার আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। আনন্দের উৎসব এবার বহু গুণে বড় তাঁর জীবনে।

