‘ওরা গলা চেপে ধরে, টেনে হিঁচড়ে..’, ভর দুপুরে সস্ত্রীক হামলার শিকার হলেন দুর্নিবার!
দুর্নিবার জানান পোষ্য সারমেয়কে নিয়ে তিনি এবং তার স্ত্রী মোহর তথা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক ঐন্দ্রিলা সেন যাচ্ছিলেন পরিচর্যা কেন্দ্রে। কিন্তু যাওয়ার পথেই হামলার মুখে পড়লেন তারা। সমাজমাধ্যমে দুর্নিবার বলেছেন, পথে দেখেন এক দল মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু গাড়ি থেকে হর্ন বাজানোর পরেও তাঁরা সরে যাননি। এখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।

বর্তমানে আরজি কর হাসপাতালের তিলোত্তমা নিয়ে তোলপাড় গোটা বাংলা। আরজি করের ভয়ঙ্কর কান্ডের জেরে বর্তমানে দুর্বিষহ হয়েছেন সকলকে জীবন। শুধু বাংলা বা দেশে নয়, তিলোত্তমার হত্যার আঁচ পড়েছে বিদেশেও। প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারাও। প্রতিদিন চলছে মিছিল, আরজিকর ঘেরাও করেছেন ডাক্তাররা। সারা বাংলাতেই যেন জ্বলছে আগুন।
এই পরিস্থিতিতে মানুষ যেন হয়ে উঠেছে অশান্ত। আর তাদের প্রকোপের মুখেই এবার পড়েছেন বাংলার জনপ্রিয় গায়ক দুর্নিবার। ক্ষিপ্র কয়েকজন মানুষ হামলা করা হয়েছে অভিনেতা এবং তার স্ত্রীর ওপর। এমনটাই নিজের ভিডিওতে দাবি করেছেন বাংলার এই বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। কিন্তু কি ঘটেছে দুর্নিবারের সঙ্গে? কারা হামলা চালালেন এই সংগীতশিল্পীর ওপর? কেনই বা এমনটা করলেন তারা?

আজকে নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন দুর্নিবার। আর সেই ভিডিওতে তিনি জানান পোষ্য সারমেয়কে নিয়ে তিনি এবং তার স্ত্রী মোহর তথা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক ঐন্দ্রিলা সেন যাচ্ছিলেন পরিচর্যা কেন্দ্রে। কিন্তু যাওয়ার পথেই হামলার মুখে পড়লেন তারা। সমাজমাধ্যমে দুর্নিবার বলেছেন, পথে দেখেন এক দল মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু গাড়ি থেকে হর্ন বাজানোর পরেও তাঁরা সরে যাননি। এখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।
কি ঘটেছে দুর্নিবারের সঙ্গে?
দুর্নিবারের কথায়, “ভর দুপুরে রাস্তার মাঝে কাজ করছিলেন ওঁরা। কোথাও কোনও ‘স্টপ’ চিহ্ন ছিল না। পাঁচ-ছয় বার গাড়ির হর্ন বাজানোর পরেও তাঁরা না সরলে আমি গাড়ির কাচ নামাই এবং তাঁদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলি যাতে গাড়িটা যেতে পারে। কিন্তু তাঁরা তেড়ে এসে খুব প্ররোচনামূলক কথা বলতে থাকেন। আমি বাধ্য হই গাড়ি থেকে নামতে।” কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পরেই দুর্নিবারের উপর চড়াও হন তাঁরা। এমনকি, গায়কের গলা চেপে ধরেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। ভিডিওতে দুর্নিবার নিজের ক্ষত স্থান দেখিয়ে বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমার গলায় দাগ। ওঁরা গলা চেপে ধরেছিলেন। আমি এখন ঢোঁক গিলতে পারছি না। আমার হাতের দাগও দেখতে পাবেন। নিজেকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের এক জনের গলা আমিও চেপে ধরি। ওঁরা তখন তিন চার জন মিলে রাস্তার উল্টো দিকে আমাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যান।”
আরও পড়ুনঃ শুধরে গেল উত্তরবঙ্গের দেবু! এবার জগদ্ধাত্রীর পাশে দাঁড়ালো সে!
কি পরামর্শ দিয়েছেন দুর্নিবার?
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবশেষে গাড়ি থেকে নামতে বাধ্য হন দুর্নিবার পত্নী মোহর। দুর্নিবারের মতে, “মোহর গাড়ি থেকে নেমে খুব সাহসের সঙ্গে বলে, ‘সাহস থাকলে আমার গায় হাত দিয়ে দেখান’। আমি সত্যিই ওর কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক মহিলা মোহরকে দু’বার ধাক্কা দেন। মোহরেরও হাতে ব্যথা লেগেছে। লোক জড়ো হয়ে যায় রাস্তায়। শুধু রাত নয়, ভর দুপুরেও এমন হতে পারে। ওরা একটা কাঠের ডাল নিয়ে তেড়ে এসেছিল। শারীরিক ভাবে খুব আঘাত না হলেও, মানসিক ভাবে আমরা বিধ্বস্ত। যাঁদের চোখে মুখে অশিক্ষার ছাপ, তাঁদের থেকে দূরে থাকবেন।” দুর্নিবার জানান নেতাজিনগর থানার অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, “যাঁরা কাজ করছিলেন তাঁরা কোনও মিস্ত্রী নন। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা।” তবে সবশেষে বর্তমানে পরিস্থিতিতে যাদের মুখে অশিক্ষার ছাপ বা রাস্তাঘাটে অসভ্যের মতো আচরণ করছে এই ধরনের মানুষজনের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দুর্নিবার।

