ভেঙেছে শরীর, হারিয়েছেন অতি প্রিয় কাল ঘন চুল, কিন্তু হারায়নি আত্মবিশ্বাস! কঠিন সময়েও প্রাণখোলা হাসি! ক্যা’ন্সারের যন্ত্রণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেয়ের ভ্লগে হাসিমুখে ধরা দিলেন অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্য!

বাংলা বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রাণবন্ত মুখ অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্য (Esha Bhattacharya)। পার্শ্বচরিত্রে নিজের দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তিনি বহু বছর ধরে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। ছোটপর্দা হোক বা বড়পর্দা তাঁর উপস্থিতি সব সময়ই দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। শুধু অভিনয়েই নয়, মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্যের জনপ্রিয় কনটেন্ট ভ্লগেও অভিনেত্রীর সদা-হাসিখুশি ও প্রাণখোলা রূপ বারবার ধরা দিয়েছে।

তবে পর্দার এই হাসিখুশি মানুষটির জীবন এখন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভিনেত্রী বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার তাঁর শরীরে এই মারণ রোগ ধরা পড়েছিল। সেই সময় সঠিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই রোগ আবারও ফিরে এসেছে। দ্বিতীয়বারের এই ক্যান্সার আগের চেয়েও কিছুটা জটিল হলেও, এষার মনের জোর এতটুকু টলানো যায়নি।

মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্যের ভ্লগে বারবার ফুটে উঠেছে মায়ের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্প। সম্প্রতি কেমোথেরাপি নেওয়ার পর শারীরিক জটিলতা বাড়ায় টানা ২২ দিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। চিকিৎসা চলার কারণে মাথার চুলও পড়ে গিয়েছে। কিন্তু অসুস্থতা তাঁর মুখের হাসি আর সাজগোজের আনন্দকে এতটুকুও কেড়ে নিতে পারেনি। মেয়ের ভ্লগে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, অসুস্থতাকে পাশে সরিয়ে রেখে তিনি কীভাবে হাসিমুখে প্রতিদিনের জীবন উপভোগ করার চেষ্টা করছেন।

জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সাজতে ভালোবাসেন এষা। নিজের কষ্টকে আড়াল করে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আর হাসি মুখে থাকাটা যেন তাঁর অন্যতম বড় শক্তি। মেয়ে প্রেরণার অনুপ্রেরণাতেই তিনি এই অভ্যাস বজায় রেখেছেন। প্রেরণার ভ্লগগুলোতেও বারবার ধরা পড়েছে, শরীর যত দুর্বলই হোক না কেন, এষা ভট্টাচার্য মনে প্রাণে ভালো থাকার, খুশি থাকার এবং সুন্দরভাবে সেজেগুজে বেঁচে থাকার যুদ্ধটা জিতে চলেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ভিউজের জন্য সস্তার জিনিস দেখানো বন্ধ হোক!’ ‘কোথায় থামা উচিত সেটা শিল্পীদের নিজেদেরকেই বুঝতে হবে!’ অকারণে অত্যাধিক ঘ’নিষ্ঠ দৃশ্য! এসব ছাড়া কি একেবারেই চলে না? প্রশ্ন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর!

চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন, এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক সুস্থতা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা খুব জরুরি। আর ঠিক সেই কাজটাই অত্যন্ত সহজভাবে করে দেখাচ্ছেন এষা। কষ্টের মাঝেও খুশি থাকার এই যে অসীম চেষ্টা, তা প্রেরণার ভ্লগের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের কাছে। জীবনযুদ্ধে এষা ভট্টাচার্যের এই হাসিমুখের সাজগোজ আর অদম্য সাহসিকতা আজ বহু মানুষের কাছে এক ভীষণ অনুপ্রেরণা।

Back to top button