৭৮টা ঘুমের ওষুধ কোথা থেকে পেলেন দেবলীনা? সত্যিটা সামনে আসতেই শিউরে উঠলো নেটপাড়া! কি বললেন গায়িকার দিদি?

হাসিমুখ আর মিষ্টি ব্যবহারে যাঁকে সব সময় চেনা যেত, সেই সংগীতশিল্পী দেবলীনা নন্দী আজ গভীর উদ্বেগের কেন্দ্রে। তাঁর গানের জাদু, সংসারের ছোট ছোট মুহূর্ত আর ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কাটানো সময় এতদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিল ইতিবাচকতার প্রতীক। কিন্তু হঠাৎই তাঁর জীবন নিয়ে চরম সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই শিউরে ওঠে নেটদুনিয়া। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এতগুলি ঘুমের ওষুধ এল কোথা থেকে এবং কীভাবেই বা তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেন। এই আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে দেবলিনার দিদি একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন।
লাইভে দেবলিনার দিদি স্পষ্ট জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কুৎসা আর অপপ্রচার তাঁর বোনের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলছে। তিনি বলেন, দেবলিনার দীর্ঘদিন ধরেই ঘুমের সমস্যা ছিল এবং চিকিৎসকের পরামর্শে তখন তাঁকে ওষুধ দেওয়া হয়। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে ওষুধ জমে গিয়েছিল। দিদির দাবি, ওষুধগুলির ডোজ ছিল হালকা, তাই বড় ক্ষতি হয়নি। কিন্তু সমাজমাধ্যমে যেভাবে নানা গল্প বানানো হচ্ছে, তা দেবলিনার সুস্থ হয়ে ওঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দিদির কথায় উঠে আসে দেবলিনার আর্থিক ও পারিবারিক টানাপড়েনের ছবিও। তিনি অভিযোগ করেন, দেবলীনা সংসারের প্রায় সমস্ত খরচ একাই সামলাতেন। তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর জন্য প্রতি মাসেই একাধিক চাহিদা পূরণ করতেন দেবলীনা। দামি উপহার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন সবই নাকি তাঁর রোজগারের টাকায় চলত। এমনকি স্বামীর পোশাক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সামগ্রী পর্যন্ত কিনে দিতেন দেবলীনা। এই আর্থিক চাপ ও মানসিক টানাপড়েন তাঁকে ভিতরে ভিতরে ভেঙে দিচ্ছিল বলে দাবি দিদির।
এর আগেও একাধিক লাইভে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেছিলেন দেবলীনা নিজেই। তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর পেশা ও মাকে নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। বারবার তাঁকে বলা হচ্ছিল, মাকে ছেড়ে দিতে হবে। দেবলীনার কথায়, নিজের সব হাসি আর সাফল্য তিনি ভ্লগে ভাগ করে নিলেও জীবনের গভীর যন্ত্রণা কখনও প্রকাশ্যে আনেননি। মায়ের ত্যাগের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ বারবার ভারী হয়ে উঠেছিল। সেই মাকে ছেড়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রযোজকের নোংরা প্রস্তাব মানিনি, তাই নায়িকা হতে পারিনি…শ্বশুর বাড়ি আমায় মেনে নেয়নি’ জীবনে রয়ে গেছে একাধিক না পাওয়া! নিজেকে নিয়ে অকপটে “মেহেন্দি” ওরফে ঋতু রায় আচার্য্য!
২০২৪ সালে পাইলট স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন দেবলীনা। বাইরে থেকে সেই জীবন যতটা ঝকঝকে দেখাত, ভিতরে ততটাই ছিল অস্থিরতা আর চাপ। আজ তাঁর সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনায় মুখর নেটপাড়া। এই ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার হাসিমুখের আড়ালে কতটা নীরব যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকতে পারে। দেবলিনার এই লড়াই শুধু তাঁর একার নয়, বরং সমাজের প্রতিটি সংবেদনশীল মানুষের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।

