‘আমরা একসঙ্গে বহু ছবিতে কাজ করেছি, কিন্তু ওর এই রূপটা কখনো দেখিনি, প্রথম জানতে পারলাম ওর…’ শতাব্দী রায়ের সম্পর্কে কি জানতে পেরে বিস্মিত দেবশ্রী রায়?

টলিউডের (Tollywood) সোনালী যুগের কথা বললে যে দু’টি নাম সবার আগে উঠে আসে, তাঁরা হলেন দেবশ্রী রায় (Debashree Roy) এবং শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। নব্বইয়ের দশকে পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি মানেই ছিল সুপারহিট ছবি। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই দীর্ঘ সম্পর্কের পরেও শতাব্দীর এমন একটি গোপন ট্যালেন্ট প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে স্বয়ং দেবশ্রী রায়ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই অজানা তথ্য।
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে দেবশ্রী এবং শতাব্দীর জুটি ছিল আইকনিক। তাঁদের অভিনীত ‘অগ্নিশিখা’, ‘নাগিন’, ‘স্বর্ণলতা’-র মতো বহু চলচ্চিত্র বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। স্ক্রিনে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন দর্শকরা পছন্দ করতেন, তেমনই তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নও ছিল চর্চিত। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁরা কেবল সহকর্মীই ছিলেন না, ছিলেন একে অপরের বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দিনের পর দিন স্টুডিও ফ্লোরে সময় কাটিয়েছেন, শেয়ার করেছেন সুখ-দুঃখের নানা মুহূর্ত।
পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি দুজনেই পা রাখেন রাজনীতির ময়দানে। দেবশ্রী রায় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হন, অন্যদিকে শতাব্দী রায় বীরভূমের সাংসদ হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করেন। রাজনীতির কঠিন ময়দানেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অমলিন ছিল। কাজের সূত্রে ব্যস্ততা বাড়লেও, যখনই দেখা হয়েছে, উষ্ণ সম্ভাষণ বিনিময় করতে ভোলেননি টলিউডের এই দুই কুইন।
এত বছরের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, শতাব্দী রায়ের গোপন ট্যালেন্ট এর কথা জানতেন না দেবশ্রী। জানা গেছে, সম্প্রতি একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে শতাব্দী হঠাৎই তাঁর এই সুপ্ত প্রতিভা প্রদর্শন করেন, যা দেখে দেবশ্রী রায় রীতিমতো অবাক হয়ে যান। নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে দেবশ্রী রায় বলেন, “শতাব্দীর সাথে বহু ছবিতে কাজ করেছি, রাজনীতিতেও একসাথে থেকেছি। কিন্তু ও যে এত চমৎকার কবিতা পাঠ করতে পারে, তা আমি সত্যিই জানতাম না। ওর এই দিকটা দেখে আমি মুগ্ধ। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পরেও একে অপরের সম্পর্কে নতুন কিছু জানা সত্যিই আনন্দের।”
শতাব্দীর এই নতুন প্রতিভার কথা প্রকাশ্যে আসতেই টলিপাড়ায় তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা এখন চাইছেন, শতাব্দী রায় অভিনয়ের বাইরেও তাঁর এই নতুন রূপ সবার সামনে তুলে ধরুন। দেবশ্রী রায় ও শতাব্দী রায়ের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বন্ধুত্ব কতটা গভীর হলেও মানুষের প্রতিভার সবটুকু সবসময় সামনে আসে না। অভিনয়ের জগৎ থেকে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ সব ক্ষেত্রেই তাঁরা একসাথে হেঁটেছেন। তবুও, শতাব্দীর এই সুপ্ত প্রতিভার আবিষ্কার প্রমাণ করল যে, এই দুই তারকা এখনও একে অপরকে এবং দর্শকদের চমকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

