কেকের সঙ্গে কড়াইশুঁটির কচুরি! বিদেশির বাড়িতে অদ্ভুত বড়দিন! অম্বরীশ-কনীনিকা-সুদীপের স্মৃতিতে পুরনো কলকাতা!

আজকের ঝলমলে আলোর শহর তখন এমন ছিল না। বড়দিন এলেই এক মাসের আলোকসজ্জা বা উপচে পড়া ভিড় নয়, বরং ছিল নরম আলো আর সহজ আনন্দ। সত্তর আশির দশকের কলকাতায় বড়দিন মানেই ছিল অন্যরকম আবহ। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পরিবারগুলিতে কেকের পাশে কড়াইশুঁটির কচুরি কিংবা নতুন আলুর দম খাওয়ার চল ছিল। সেই দিনের সাক্ষী ছিলেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ মুখোপাধ্যায়।
তিনজনের কথাতেই ফিরে আসে এক শান্ত শহরের ছবি। কনীনিকার স্মৃতিতে বড়দিন মানে ছিল কম বাহুল্য, কম আলো, কিন্তু অনেক বেশি আন্তরিকতা। বো ব্যারাক তখন মধ্যবিত্ত বাঙালির নিত্য গন্তব্য নয়। বরং চিড়িয়াখানা বা ধর্মতলার কেকের দোকানেই আনন্দ খুঁজে নিত পরিবারগুলি। সান্টাক্লজ উপহার দিতেন না ঠিকই, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়েই ছিল আসল উৎসব।
অম্বরীশের স্মৃতিতে সেই দিন আরও রঙিন। তিনি ফিরিঙ্গিপাড়ায় বড়দিনে ছানার কেক খাওয়ার কথা মনে করেন। তাঁর চোখে ভাসে খ্রিস্টান পরিবারগুলির খাওয়াদাওয়া, যেখানে কেকের পাশাপাশি কচুরির গন্ধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শহরের রাস্তায় সেজেগুজে বেরোনো ইউরোপীয় মানুষদের হিল জুতোর শব্দ আর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি মিলেমিশে এক অনন্য অনুভূতি তৈরি করত, যা আজ আর দেখা যায় না।
সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের বড়দিন ছিল দ্বিগুণ আনন্দের। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিনেই তাঁর বাবার জন্মদিন হওয়ায় বাড়িতে পায়েস আর ভালমন্দ রান্না হত। সেনাবাহিনীর চিকিৎসক বাবার সঙ্গে নানা শহরে ঘোরার অভিজ্ঞতা থাকলেও কলকাতার বড়দিন ছিল আলাদা। হেস্টিংসের কাছে বাড়ি থেকে আলোয় সাজা রেস কোর্স দেখা, রেড রোডে ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি ছুটতে দেখা আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে।
আরও পড়ুনঃ ‘নিজে তো সস্তার শাড়ি পরেন…’- বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল নেটপাড়া! জয়া বচ্চনের বিরুদ্ধে কেন গর্জে উঠলেন হিন্দুস্তানি ভাউ?
তিন অভিনেতার স্মৃতিতে একটা মিল স্পষ্ট। সেই সময় বড়দিন ছিল পারিবারিক, সংযত আর উষ্ণ। কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা নয়, কোনও বাড়াবাড়ি নয়। বড়দের ভয় ছিল, সম্মান ছিল, আর ছিল সব উৎসবে একসঙ্গে মিশে যাওয়ার বাঙালি মানসিকতা। আজকের ঝাঁ চকচকে শহরের ভিড়ে দাঁড়িয়ে সেই সহজ দিনের বড়দিন যেন আরও বেশি করে মনে পড়ে।

