‘ও দুর্ধর্ষ সুন্দরী…ওই দিনটা কখনো ভুলবো না!’ মুনমুন সেনকে নিয়ে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণ! রহস্যময়ী সুন্দরীকে নিয়ে কি কি বললেন অভিনেতা?

অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর কথায়, মুনমুন সেনকে প্রথম থেকেই এক রহস্যময়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতেন তিনি। সুচিত্রা সেনের মেয়ে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে কৌতূহল ছিল অনেক। তখনও মুনমুন খুব বেশি কাজ করেননি, তাই তাঁকে নিয়ে একটা অজানা আকর্ষণ কাজ করত। চিরঞ্জিত জানান, ‘অন্তরালে’ ছবিতে একসঙ্গে কাজের সুযোগ আসার পরই তাঁদের প্রথম আলাপ হয়। সেই থেকেই শুরু হয় এক অন্যরকম সম্পর্ক।
প্রথমবার এক পার্টিতে মুনমুনকে দেখে চিরঞ্জিত অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মুনমুন ছিলেন একেবারে নিখুঁত সৌন্দর্যের প্রতীক। বিশেষ করে তাঁর চুলের স্টাইল ছিল চোখে পড়ার মতো, যা আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের সঙ্গে তুলনীয়। চিরঞ্জিত মনে করেন, যেমন লেডি ডায়ানা ছিলেন ফ্যাশন আইকন, তেমনই নিজস্ব স্টাইলের জন্য মুনমুনও আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর উপস্থিতিই ছিল নজরকাড়া।
শুটিংয়ের সময় মুনমুনের মজার স্বভাবও বারবার সামনে এসেছে। ‘অন্তরালে’ ছবির একটি দৃশ্যে অভিনয়ের সময় নিজের মুখ ঢেকে যাওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। মজা করে বলেছিলেন, তাঁর মুখই তাঁর পরিচয়। এমন ছোটখাটো ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, নিজের কাজ ও উপস্থিতি নিয়ে তিনি কতটা সচেতন ছিলেন। তবে এই সব নিয়ে তাঁদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই খুনসুটি আর হালকা ঝগড়াও চলত।
চিরঞ্জিত আরও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে শুটিংয়ের সময় মুনমুন ভুলবশত একটি দৃশ্যে তাঁকে সত্যিই কামড়ে দেন। সেই মুহূর্তে দৃশ্য থামানো সম্ভব না হওয়ায় ঘটনা মজার মোড় নেয়। পরে অবশ্য নিজেই যত্ন নিয়ে সব ঠিক করে দেন। এমনই প্রাণখোলা আর স্বতঃস্ফূর্ত মানুষ ছিলেন মুনমুন। সেটে তাঁর হাসি আর দুষ্টুমি সবার মন ভালো করে দিত।
আরও পড়ুনঃ ‘আপনার মত আমার কাছে এত টাকা নেই…’ ‘আমার বাড়িতে টাকার গাছ নেই…’ হঠাৎ কার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য ছুঁড়ে দিলেন অভিনেত্রী মধুবনী গোস্বামী?
বর্তমানে মুনমুনের জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান চিরঞ্জিত। স্বামী ভরত দেব শর্মার মৃত্যুর পর তাঁকে অনেকটাই বদলে যেতে দেখা গেছে। তবে তাঁর সরলতা এবং মিষ্টি স্বভাব আজও একই রয়েছে। রাজনীতিতে আসাও তাঁর কাছে ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা মাত্র। চিরঞ্জিতের ইচ্ছা, মুনমুন যেন সব সময় নিজের সেই স্বাভাবিক হাসিটা ধরে রাখেন, কারণ সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আলাদা করে তোলে।

