‘বাইরে উৎসব হলেও বাড়ির মানুষের কাছে আজ শোকের দিন’, মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে ভবানীপুরের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী! মহানায়কের স্মৃতিচারণায় দেবলীনা-রুদ্রনীল!

আজ মহানায়ক উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) প্রয়াণ দিবস। বাঙালি সিনেমার ঈশ্বরতুল্য এই অভিনেতার প্রয়াণ দিনে আজ পুরো বাংলা জুড়ে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে। ভবানীপুরে মহানায়কের পৈতৃক বাড়িতে আজ সকাল থেকেই ছিল বিষাদ ও স্মৃতিচারণের পরিবেশ। এই বিশেষ দিনে সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত হন। তিনি মহানায়কের ব্যবহৃত ঘর, তাঁর পাওয়া সম্মাননা ও ট্রফিগুলো ঘুরে দেখেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলা সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নিজে এসে পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন, প্রতিটি কোণ ঘুরে দেখেছেন এবং ছবিতে মাল্যদান করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাশাপাশি, গত ১৫-২০ বছর ধরে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে মহানায়কের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি। এর সাথে মহানায়কের নামে একটি নতুন স্টুডিও তৈরি এবং আসন্ন জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন নিয়েও আলোচনা হয়।

মহানায়কের নাতবউ তথা অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার এই বিশেষ দিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বাইরে থেকে দেখলে আজ সারাদিনজুড়ে নানা উদ্‌যাপন মনে হতে পারে, কিন্তু বাড়ির সদস্যদের কাছে এটি মূলত এক শোকের ও আবেগঘন স্মৃতিচারণের দিন। তিনি জানান, এই পরিবারের বউ হওয়ার আগে থেকেই তিনি উত্তম কুমারের স্মৃতিতে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতেন। আজকের এই দিনটিতে পরিবারের সবাই নানা তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ততার মধ্যে থাকলেও, দিনশেষে মহানায়কের অভাব ও স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্তে গভীরভাবে অনুভূত হয়।

এর পাশাপাশি ভিডিওতে মহানায়কের পরিবার ও পরবর্তী প্রজন্মের স্মৃতিতর্পণ ফুটে উঠেছে। মহানায়কের পুত্রবধূ রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং নাতনী নবমিতা চট্টোপাধ্যায় দাদুর নানা স্মৃতি শেয়ার করেন। নবমিতা আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, তাঁর জন্মের আগেই দাদু কীভাবে নিশ্চিত ছিলেন যে নাতনীই হবে এবং তাঁর জন্য বিদেশ থেকে পোশাক কিনে এনেছিলেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁকে সরাসরি না পাওয়ার এক আক্ষেপ ও শূন্যতা আজও তাঁদের মনে রয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি যে মাধ্যমটা বেশি ব্যবহার করতে চাই, সেটা আমার শিল্প!’ ‘আমার থেরাপির দরকার নেই’ বলাটাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অংশ!’ ‘আজকের দিনেও ব্যাক টাচ সইতে হবে?’ ভার্চুয়াল ট্রোলিং নিয়ে স্পষ্ট উজান গাঙ্গুলী!

সারাদিনজুড়ে রক্তদান শিবির, সুচিত্রা-উত্তম স্মরণে নন্দনের নানা অনুষ্ঠান ও অন্যান্য উদ্যাপনের মধ্যেও ভবানীপুরের এই পৈতৃক বাড়িটি আজও এক গভীর পারিবারিক আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে একদিকে যেমন তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে, তেমনই তাঁর দেখানো আদর্শ ও ঐতিহ্যকে পাথেয় করে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন শপথ নেওয়া হয়েছে।

Back to top button