“বাবা জীবিত থাক বা না, একা সন্তান বড় করলে চৌদ্দগুণ কষ্ট পাবে!”— একক মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা থাকলেও অহনার পাশে নেই মা! অহনার গর্ভাবস্থায় চাঁদনীর হিংস্র পোস্টে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা! মা না অভিশাপ?—উঠছে প্রশ্ন!

নতুন জীবন শুরু করার পথে এগিয়ে গিয়েছেন ‘অনুরাগের ছোঁয়া’র জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘অহনা দত্ত’ (Ahona Dutta)। ধারাবাহিকে ‘মিশকা’ চরিত্রে খলনায়িকা হয়েও যেভাবে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তা কম কৃতিত্বের নয়। তবে এই মুহূর্তে তিনি চর্চার কেন্দ্রে রয়েছেন তার ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে। ২০ বছর বয়সেই মেকআপ আর্টিস্ট ‘দীপঙ্কর রায়’ (Dipankar Ray) এর সঙ্গে প্রেমে পড়েছিলেন অহনা। সেই প্রেম পরিণতি পায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আইনি বিয়ের মাধ্যমে, যা সামনে আসে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এরপর মার্চে অভিনেত্রী ঘোষণা করেন যে তিনি মা হতে চলেছেন, এবং তাঁদের প্রথম সন্তান অগস্টে আসতে চলেছে।

অহনা এবং দীপঙ্করের এই সম্পর্ক ও বিয়ে যদিও অনেকের কাছেই স্বাভাবিক, তবে তা মোটেই মেনে নিতে পারেননি অহনার মা! জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাশে পাননি নিজের মাকেই। অহনার মা চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবী– দীপঙ্কর ডিভোর্সি এবং অহনার চেয়ে অনেকটা বড়। ফলস্বরূপ মা-মেয়ের সম্পর্ক চূড়ান্ত তিক্ততায় পৌঁছায় এবং তাঁদের মধ্যে আর কোনও যোগাযোগই নেই বললেই চলে। অথচ ছোটবেলায় স্বামীকে ছেড়ে বাপের বাড়িতে এসে চাঁদনী অহনাকে নিজের মতো করে বড় করেন।

প্রথমদিকে মা-মেয়ের জুটি একসঙ্গে পারফর্মও করতেন টেলিভিশনে। কিন্তু অহনা যখন নিজের অভিনয় কেরিয়ার শুরু করেন, তখন থেকেই মা নাকি তাঁর উন্নতিকে মেনে নিতে পারেননি—এমনটাই অভিযোগ অহনার। সেই অতীত আজ বিষিয়ে তুলেছে বর্তমানকে। সমাজ মাধ্যমে মাঝে মধ্যেই চাঁদনী কিছু বার্তা দেন, যা ঘুরপথে তাঁর মেয়ের দিকেই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন একাংশ। সম্প্রতি চাঁদনী একটি লেখা শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি লেখেন—”একা মা হওয়া খুব কষ্টের, কিন্তু বাবা জীবিত থেকেও একা মা হয়ে মেয়েকে বড় করা তার চেয়ে চৌদ্দগুণ বেশি কষ্টের!”

এই লেখাতেই যেন স্পষ্ট অপমান ও অভিশাপের সুর। এবং ঠিক এখান থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই পোস্টের পর চাঁদনীকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। একাধিক মন্তব্যে তাঁকে ‘নির্মম মা’ বলে সম্বোধন করা হয়। অনেকেই বলেন, গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েকে এভাবে আঘাত করা একজন মায়ের কাজ হতে পারে না। একজন লেখেন, “মা তো প্রতিশোধ নেয় না, এই সময় মা’ই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মেয়ের ভুল থাকলেও ক্ষমা করে তার পাশে থাকুন। সন্তানের ক্ষতি হলে আফসোস থাকবে না আপনার!”

আরও পড়ুনঃ ফুলকিকে চিরনিদ্রায় পাঠাতে ছোটরাণীর নতুন ষ’ড়যন্ত্র! ফুলকিকে সাবধান করতে গিয়ে ভয়ংকর সত্যির সম্মুখীন রোহিত!

আরেকজন কটাক্ষ করেন, “নিজেই একা সন্তান মানুষ করেছেন বলে জানেন সেটা কতটা কঠিন, তাহলে সেই একই কষ্ট কেন নিজের মেয়ের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছেন?” এমনকী কেউ কেউ চাঁদনীকে সরাসরি ‘হিংসুটে মা’ বলতেও পিছপা হননি। এই মুহূর্তে অহনার মা হওয়ার কাউন্টডাউন চলছে। স্বামীর মা প্রয়াত, নিজের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—সব মিলিয়ে একা হাতে এই কঠিন সময় সামলাচ্ছেন অহনা। এই পরিস্থিতিতে নিজের সামাজিক মাধ্যমেই তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন, মানসিকভাবে ভীষণ চাপে রয়েছেন তিনি।

Back to top button