‘বাম আমলে অনেক নি’গৃহীত হয়েছি, গায়ে হাত দিয়ে তারা…!’ ‘রূপা-রুদ্রনীল-পাপিয়া এনাদের ওপর আশা ছিল, কিন্তু…! ‘শিক্ষিত মানুষ তো আছেন, তবে দায়িত্ব পেলেন কে?’ টলিউডের তিন তারকার নাম টেনে কিসের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেতা চন্দন সেন?

বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম এক পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ হলেন চন্দন সেন (Chandan Sen)। বহু বছর ধরে নাটক, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের পর্দায় নিজের অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণ করে আসছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চন্দন সেন তাঁর স্পষ্টবক্তা ইমেজের জন্যও পরিচিত। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলা সংস্কৃতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে থিয়েটার বা নাট্যজগতের যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তিনি যথেষ্ট দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।

বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলের একটি অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে চন্দন সেন জানান, সেই সময়ে তিনি সরকারের সমালোচনার কারণে তাঁদের কথার মাধ্যমে নিগৃহীত বা হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে, মুখে যতই সমালোচনা বা বাদানুবাদ হোক না কেন, বাম আমলে তাঁর গায়ে কেউ কখনো হাত তোলেনি। চন্দন সেনের মতে, বাংলা সংস্কৃতির দায়িত্ব আসলে এমন কিছু মানুষের হাতে থাকা উচিত, যাঁরা সংস্কৃতির প্রকৃত কদর বোঝেন এবং শিল্পীদের সঠিক সম্মান দিতে পারেন।

বর্তমান শাসক দলের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, এই সরকারের মধ্যেও অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ রয়েছেন, যাঁরা শিল্প ও সংস্কৃতিকে মন থেকে সম্মান জানাতে জানেন। তিনি মনে করেন, সঠিক মানুষের হাতে সঠিক দায়িত্ব দেওয়া হলে সংস্কৃতির রূপরেখা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। তবে বর্তমানের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে তিনি সম্পূর্ণ আশ্বস্ত হতে পারছেন না এবং নাট্যজগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মনে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চন্দন সেন টলিউডের তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রূপা গাঙ্গুলী, রুদ্রনীল ঘোষ এবং পাপিয়া অধিকারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এরা তিনজনই মূলত যাত্রা ও থিয়েটার জগতের মানুষ এবং প্রত্যেকেই অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আশা করেছিলেন যে, যেহেতু এঁরা সংস্কৃতির মাটি থেকে উঠে এসেছেন, তাই হয়তো এঁদের মধ্যে কেউই বাংলা সংস্কৃতির মূল দায়িত্বভার সামলানোর সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমাকে ফোন করে বললেন, তোকে নিতে সবাই বারণ করছে, তাই…!’ ‘কারও মুখে তো শ’য়তান লেখা থাকে না!’ ‘আমাকে দেখতে নাকি খুব…!’ নিজের চেহারার কোন বৈশিষ্ট্যে কাজ হারাতে বসেছিলেন অভিনেত্রী? মুখ খুললেন কন্যাকুমারী মুখোপাধ্যায়!

তবে শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতি বিভাগের মূল দায়িত্ব যার হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে, তার ওপর চন্দন সেন পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না। অভিনেতা মনে করেন, যাঁদের সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান এবং থিয়েটার বা যাত্রার ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, তাঁরাই এই পদের জন্য সবচেয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন। সঠিক অভিভাবকত্বের অভাবে আজ বাংলার থিয়েটার ও সংস্কৃতির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়েই চন্দন সেন তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

Back to top button