‘কি দরকার ছিল জলে নামার? কিসের ফুর্তি হলো?’ ‘রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আমার হাত ধরেই বড় হয়েছে!’ ‘ছেলেটার কি এখনই যাওয়ার বয়স হয়েছিল?’ স্মৃতিচারণায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ছন্দা চট্টোপাধ্যায়!

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়ায়। মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁর চলে যাওয়ার খবরটি বিনোদন জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। রাহুলের এই আকস্মিক বিদায় মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অগ্রজ শিল্পীরা। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ছন্দা চট্টোপাধ্যায় (Chanda Chatterjee) রাহুলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে এক গভীর শূন্যতা এবং বর্তমান সময়ের অভিনয় জগতের কিছু রূঢ় বাস্তবতা, যা রাহুলকে ঘিরে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

ছন্দা চট্টোপাধ্যায় রাহুলের শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে করে জানান, তাঁদের পরিচয় আজ থেকে নয়, বরং বহু বছরের পুরনো। ‘আস্থা’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। সেই সময় রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা সরকার দুজনেই ছিলেন শিশুশিল্পী। বাসন্তী দেবীর কথায়, “আস্থাতে রাহুল আমার নাতি এবং প্রিয়াঙ্কা আমার নাতনি হিসেবে অভিনয় করত। একদম ছোট থেকে ওকে আমি বড় হতে দেখেছি।” সেই ছোট্ট রাহুল থেকে আজকের সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হয়ে ওঠার যাত্রাপথটি অভিনেত্রীর চোখের সামনেই ঘটেছে, তাই তাঁর মৃত্যু ছন্দা দেবীর কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো।

রাহুলের চলে যাওয়াকে তিনি কেবল একজন সহকর্মীর মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না, বরং বর্তমান প্রজন্মের মানসিক অস্থিরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ছন্দা চট্টোপাধ্যায় আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “এই যুগের ছেলেমেয়েরা বড্ড অধৈর্য হয়ে পড়েছে। কেউ আর স্থির নেই।” রাহুলের মতো প্রাণবন্ত এক মানুষের এত দ্রুত চলে যাওয়া তাঁর মনে গভীর ধাক্কা দিয়েছে। তিনি বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই অকাল প্রস্থান? অরুণোদয়ের কি আদৌ এভাবে যাওয়ার কথা ছিল? এই প্রশ্নটিই এখন টলিউডের অন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে রাহুলের কালজয়ী সিনেমা ‘চিরদিনী তুমি যে আমার’ দেখার সুযোগ পাননি ছন্দা দেবী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁরা দুজনেই ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকের অংশ ছিলেন। যদিও সেখানে তাঁদের সরাসরি দৃশ্য খুব একটা ছিল না, তবুও একই প্রজেক্টে কাজ করার সুবাদে রাহুলের পেশাদারিত্ব এবং ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন তিনি। মিডিয়ার দৌড়াদৌড়ি এবং কাজের চাপের মাঝেও রাহুলের সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ তাঁর কাছে আজ অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে নীতিবাক্য বা উপদেশ দেওয়ার জায়গাটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, “কাউকে মেসেজ দিয়ে লাভ নেই, কারণ কেউ আর শুনতে বা মানতে চায় না। যে যার দৃষ্টিভঙ্গিতে চলছে।” তবুও রাহুলের এই শূন্যতা যেন নতুনদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে জীবন কতটা অনিশ্চিত। টলিউড হারাল তাঁর এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে, আর বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের মতো অগ্রজরা হারালেন তাঁদের স্নেহভাজন ‘নাতি’কে।

Back to top button