‘সব ছেলেমেয়েকে কলকাতায় ফেরাবই!’, ‘গোটা যাদবপুরটাই যেন বৃদ্ধাশ্রম!’ ভিন রাজ্য থেকে তরুণ প্রজন্মকে ফেরানোর হুঙ্কার! দেশে বাবা মাকে ফেলে কাউকে বাইরে কাজ করতে দেবেন না অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের!

টেলিভিশন, থিয়েটার এবং অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ শর্বরী মুখোপাধ্যায় (Sharbori Mukherjee) বর্তমান বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নাম। বিগত প্রায় দুই দশক ধরে টলিউড ও নাট্যজগতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। আসানসোলের এক সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শর্বরীর অভিনয়ের হাতেখড়ি বাবার হাত ধরেই। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু সিরিয়াল এবং নিজের থিয়েটার দল ‘তিতাস’-এর মাধ্যমে নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের গভীর ছাপ রেখেছেন তিনি। তবে কেবল বিনোদন জগৎ নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) টিকিটে হাইপ্রোফাইল যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং টলিউডের অন্দরে রাজনৈতিক ভেদাভেদের বিরুদ্ধে লড়াই পার করে এখন তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ‘বাংলা হান্ট’ চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে যাদবপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের এক আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে তিনি যাদবপুর তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গের এক জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠ পেরিয়ে বিধায়ক হওয়ার পর নিজের এলাকা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গোটা যাদবপুর জুড়ে যেন এক বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়ে গেছে।” তাঁর এই একটি বাক্যই বুঝিয়ে দেয় কর্মসংস্থানহীন এবং তরুণ প্রজন্মহীন এক একাকী কলকাতার বাস্তব চিত্র কতটা করুণ হয়ে উঠেছে।

অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও শিল্পনীতির ব্যর্থতার ফল। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, কর্মসংস্থানের চরম অভাবের কারণে বাংলার বুক খালি করে আমাদের প্রতিটা ছেলেমেয়ে ভিন রাজ্যে বা দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। যে বয়সে সন্তানদের বাবা-মায়ের পাশে থাকার কথা, সেই বার্ধক্যের দিনগুলোতে প্রবীণরা চরম একাকীত্বে ভুগছেন। এমনকি বয়সের ভারে যখন শরীরে রোগ বাসা বাঁধছে, তখন প্রবীণ বাবা-মায়েদের প্রেসার বা সুগারের ওষুধটুকু কিনে এনে দেওয়ার মতোও কেউ পাশে থাকছে না।

এই চরম বাস্তবতাকে সামনে রেখেই শর্বরী মুখোপাধ্যায় এটিকে একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে মায়েদের লড়াই বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ও অঙ্গীকার হলো এই পরিযায়ী তরুণ প্রজন্মকে আবার নিজেদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা। শর্বরী বলেন, “আমি প্রতিটা ছেলেমেয়েকে কলকাতায় ফেরাব, তারা পশ্চিমবঙ্গে ফিরবে এবং বাবা-মায়ের কোলের কাছে থাকবে।” তিনি এমন এক কর্মসংস্থানমুখী পরিবেশ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে চান, যেখানে ঘরের ছেলেমেয়েরা বাইরে না গিয়ে নিজের রাজ্যেই মাথা উঁচু করে কাজ করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ ‘যৌ’নকর্মীরও দামাদামি আর সম্মতির অধিকার থাকে, ডিরেক্টর যা খুশি করতে পারেন না!’ ‘সম্মতি ছাড়া ছোঁয়া যায় না একজন যৌ’নকর্মী কেও!’ দেবালয়ের কুৎসার বিরুদ্ধে মোক্ষম জবাব অঙ্কিতা চক্রবর্তীর!

ভিডিওর শেষাংশে এক পরম পারিবারিক ও মানবিক আশাবাদের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এই নেত্রী। তিনি স্বপ্ন দেখছেন এমন এক যাদবপুরের, যেখানে বাংলার সন্তানরা সারাদিন অফিস বা কাজ শেষ করে ঘরের আলো জ্বালিয়ে বাড়ি ফিরবে। প্রবাসের একাকীত্ব ভুলে সন্ধ্যার অবসরে নিজের প্রবীণ বাবা-মায়ের সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাগ করে নেবে সারাদিনের সুখ-দুঃখের কথা। শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতে, যাদবপুর তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে এই হারানো পারিবারিক পরিবেশ ও তারুণ্যের স্পন্দন ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর রাজনীতির আসল সার্থকতা।

Back to top button