‘আমি অঞ্জন দার প্রেমে পড়েছিলাম!’ ‘টিকে থাকতে হলে অঞ্জন চৌধুরী মার্কা ছবিই করতে হবে!’ অঞ্জন চৌধুরীর কোন জাদুতে মজেছিলেন পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জি? ফাঁস হলো বহু পুরোনো এক গোপন কথা!

বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার খোলনলচে বদলে দেওয়া এক কালজয়ী নাম অঞ্জন চৌধুরী (Anjan Chaudhury)। মধ্যবিত্তের আবেগ, পারিবারিক টানাপোড়েন আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইকে পর্দায় যেভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলতেন, তা আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসে সেই অঞ্জন চৌধুরীর স্মৃতিতে ডুব দিলেন টলিপাড়ার আরেক প্রখ্যাত পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জি। অঞ্জন চৌধুরীর গল্প বলার অসামান্য ক্ষমতা এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব কীভাবে চারপাশের মানুষকে আবিষ্ট করে রাখত, সেই কথাই অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বীরেশ চ্যাটার্জি জানান, একটা সময় তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে যদি টিকে থাকতে হয় এবং সাধারণ মানুষের মনের কাছাকাছি পৌঁছাতে হয়, তবে ‘অঞ্জন চৌধুরী মার্কা’ ছবি করাই একমাত্র পথ। সেই চেনা পারিবারিক আবেগ আর সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প না বলতে পারলে সিনেমা কোনো কাজেই আসবে না এই কঠিন বাস্তবটা তিনি টলিউডে কাজ করতে করতেই ক্রমশ বুঝেছিলেন। আর সেই কারণেই অঞ্জন চৌধুরীর কাজের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা দিন দিন বাড়তে থাকে।

পরবর্তীকালে অঞ্জন চৌধুরীর সাথে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ তৈরি হয় বীরেশ চ্যাটার্জির। তিনি জানান, অঞ্জন চৌধুরী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। অঞ্জন চৌধুরীর সান্নিধ্যে যত এসেছেন, ভদ্রলোককে যত কাছ থেকে দেখেছেন, ততই তাঁর প্রতি এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল বীরেশ বাবুর। নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে প্রবীণ এই পরিচালক ক্যামেরার সামনে সরাসরি বলেই ফেলেন, “আমি অঞ্জন দার প্রেমে পড়েছিলাম।” একজন মানুষ হিসেবে এবং পরিচালক হিসেবে অঞ্জন চৌধুরীর মহত্ত্বই তাঁকে এভাবে ভালোবেসে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

অঞ্জন চৌধুরীর গল্প বলার জাদুকরি ক্ষমতার একটি চমৎকার উদাহরণও বীরেশ চ্যাটার্জি এই আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অঞ্জন দা যখন কোনো সিনেমার গল্প শোনানো শুরু করতেন, তখন এমন এক মায়াজাল তৈরি হতো যে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে বীরেশ বাবুর চোখে জল চলে আসত। চরিত্রের আবেগগুলো অঞ্জন চৌধুরী এতটাই জীবন্ত করে তুলতে পারতেন যে শ্রোতা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারতেন না। এই অসাধারণ গুণটিই অঞ্জন চৌধুরীকে বাকিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছিল।

আরও পড়ুনঃ প্রথম ছবিতেই কেড়েছিলেন নজর! রাতারাতি হিট হয়েও কেন গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে দূরে যশোজিত ব্যানার্জি! জানেন এই খুদে জানেন টলিউডের কোন জনপ্রিয় অভিনেতার ছেলে তিনি?

গল্প শুনতে শুনতে বীরেশ বাবুর চোখে জল দেখে অঞ্জন চৌধুরীও তাঁর চেনা আবেগী ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাতেন। তিনি বীরেশ চ্যাটার্জিকে জড়িয়ে ধরে বলতেন, “তোরে আমি এত ভালোবাসি কেন বল? তোর চোখে যদি আমি জল দেখি, তাইলে আমি বুঝুম যে আমার ছবিটা হিট, নাইলে নয়।” অর্থাৎ, একজন গুণী মানুষের চোখ দিয়ে নিজের গল্পের সততা পরীক্ষা করে নিতেন এই কিংবদন্তি পরিচালক। পুরোনো দিনের এই মিষ্টি ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ টলিউডের এক সোনালী অধ্যায়কে যেন আরও একবার নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তুলল।

Back to top button