রাহুলের মৃ’ত্যুর পর থমকে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’! অনিশ্চয়তায় ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ! কি বলছেন ধারাবাহিক কর্তৃপক্ষ?

রবিবার দিঘার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা টলিপাড়া। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েই ঘটে এই দুর্ঘটনা, যা শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সহকর্মী থেকে দর্শক, সকলেই এখনও এই বাস্তব মেনে নিতে পারছেন না।
ঘটনার পর থেকেই কার্যত থমকে রয়েছে ধারাবাহিকটির কাজ। ইন্ডাস্ট্রির সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুটিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। মুভিটন স্টুডিওতে যেখানে নিয়মিত শুটিং চলত, সেখানে এখন নীরবতা। কোনও টেকনিশিয়ান বা শিল্পীকেই দেখা যায়নি সেটে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন, পাশাপাশি রাহুলের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহলে।
প্রযোজনা সংস্থার তরফে আগেই জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা স্পটে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশি তদন্ত চলছে বলেই এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। তবে এই নীরবতা আরও জল্পনা বাড়াচ্ছে। এদিকে, দর্শকমহলেও প্রশ্ন উঠছে, এত বড় ঘটনার পর কীভাবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে এই ধারাবাহিক, আদৌ ফিরবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
টেলিকাস্টের ক্ষেত্রে আপাতত ব্যাঙ্ক করা পর্বগুলি সম্প্রচারিত হচ্ছে। সোমবার একটি পর্ব দেখানো হয়েছে এবং আরও দু একদিনের জন্য এপিসোড মজুত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। কিন্তু নতুন করে শুটিং শুরু না হলে ধারাবাহিকটি এগোনো সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সাধারণত খুব বেশি এপিসোড আগেভাগে তৈরি থাকে না, ফলে কাজ বন্ধ থাকলে সম্প্রচারও শীঘ্রই থেমে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘ডাক্তার পাওয়া যায়নি, পেলে ওকে বাঁচানো যেত…’ অবশেষে মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু ঘিরে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
এই অবস্থায় দর্শকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, রাহুল যতটুকু কাজ করে গিয়েছেন, সেটুকুই সম্মানের সঙ্গে সম্প্রচার করা উচিত। অন্যদিকে, কেউ কেউ চাইছেন ধারাবাহিকটি এখানেই শেষ হোক। সব মিলিয়ে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। প্রযোজনা সংস্থার তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অপেক্ষা আর প্রশ্নই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে।

