“রাত আড়াইটে, আমার স্ত্রী প্রাক্তনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে”- সাক্ষাৎকারে নিজের অন্ধকার জীবন নিয়ে অকপটে ভাস্বর চ্যাটার্জি

টেলিভিশনের পর্দার (Television) একজন অত্যন্ত পরিচিত, গুণী, সুদর্শন অভিনেতা হলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভাস্বর। টেলিভিশন, বড় পর্দার পাশাপাশি একাধিক কাজ করেছেন তিনি। নিজের অভিনয় জীবনে চল্লিশটি সিনেমা করার পাশাপাশি ১০০ টিরও বেশি ধারাবাহিকে কাজ করেছেন। এখনো নিজের সেই কাজ সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে অভিনেতাকে আমরা প্রত্যেকেই দেখতে পাচ্ছি গীতা এলএলবি ধারাবাহিক এ কাজ করতে। এই ধারাবাহিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্রে কাজ করছেন অভিনেতা।
নিজের কর্মজীবনে ভাস্বর অনেক সফল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা কিন্তু ভীষণই কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে একটা সময়। তার জীবনে এসেছে একাধিক বাধা-বিপত্তি, নানান ঝড়ের সম্মুখীন হতে হতে তাকে। বৈবাহিক জীবন মোটেই সুখের ছিল না ভাস্বরের। যা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে একাধিক আলোচনা সমালোচনা হয়ে থাকে প্রায়শই।
অভিনেতার স্ত্রী নবনীতার কথা নতুন করে আর কিছুই বলার নেই। আমরা অনেকেই এখন জানি নবমিতার সঙ্গে ভাস্বরের সম্পর্কটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্য হওয়ায় দর্শকেরা অনেকেই চেনেন নবমিতাকে। ২০২০ সালের অগস্ট মাসে ডিভোর্স হয় উত্তমকুমারের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় ও অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের। খুব খারাপভাবে এই বিয়ে শেষ হয়। একে-অপরের দিকে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরা। ২০০৩ সাল থেকে একে-অপরকে চিনতেন নবমিতা আর ভাস্বর। এরপর সেন্সর বোর্ডে একসঙ্গে কাজ করা শুরু। তারপরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে করেন একে অপরকে।
অভিনেতা জানান “২০১৪ সালে বিয়ে পরই আমি ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে চেয়েছিলাম। তখন আমার ৩৯ বছর বয়স, ওর বয়সও বাড়ছিল। কিন্তু ও আমার থেকে কিছুটা সময় চেয়েছিল বলেছিল এক বছর সময় দিতে। কিন্তু বিয়ের দু’বছর পরেও যখন ও এই বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি তখনই আমি ওকে আবার একই প্রশ্ন করি তখন আমাকে জানিয়েছিল আমি কারও দায়িত্ব নিতে পারব না। চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি কাজ করব। এমনকী আমি গর্ভে ধারণ না করে, অ্যাডাপশনের কথাও বলেছিলাম নবমিতা সেটাতেও রাজি হয়নি।”
ভাস্বর আরো বলেন, ‘রাত একদিন দেখি বাড়ির বেল বাজছে। খুলে দেখি কেউ নেই। এরপর নবমিতা বলল ও বাথরুমে যাবে। তারপর অপেক্ষা করছি। ও আর আসছে না। উঠে দেখি বাথরুম ফাঁকা। কেউ নেই। ডিসেম্বর মাস, রাত আড়াইটে। আমি তো ভয় পেয়ে গেছি, যে কী হবে এবার! সবাই তো আমাকেই ভুল বুঝবে।’ এরপর তিনি ফোন করেন নবমিতাকে, ফোন সুইচড অফ। বাড়ির মেইন গেট খোলা। এরপর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভোর তখন চারটে। নবমিতার মা-কাকিমা এসে হাজির। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়ি ফেরে নবমিতা। এরপর নবমিতার ছোটমা সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করে ‘তুই পালিয়ে গেছিলিস রণজিতর সঙ্গে?’ তখনই নবমিতা জানিয়েছিলেন জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। তিনি আর ভাস্বরের সঙ্গে থাকতে চান না।
আরও পড়ুন: “ঠিক এই কারণেই আমি প্রেমটা করি না”- ঠিক কি কারণে আজও একলা সৌমিতৃষা!
তারপর ভাস্বর নবমিতাকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু নবমিতা কোনরকম ভাবে টিকে থাকতে পারেনি ভাস্বরের সঙ্গে। তারপর অবশেষে ২০১৯ সালে তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তুতি শুরু করেন। ২০২০ সালে করোনার পর অবশেষে আইনিভাব সব কিছু শেষ হয়। ডিভোর্সের পরও বেশ কয়েকবার ফিরতে চেয়েছেন নবমিতা, লিভ ইন করার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন। তবে তাতে রাজি হননি ভাস্বরই।

