‘ঋতুদা নিজের হাতে আমার মেকআপ করে দিয়েছিলেন, উনি এত কাছে…’- ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে প্রথম কাজ! সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন বাসবদত্তা!

ধারাবাহিক (Bengali Serial) হলো সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম রসদ। ধারাবাহিক না থাকলে বিনোদন জগতের (Entertenment) একটা বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ বাড়ির মা, কাকিমারা সারাদিন কাজকর্ম করার পর সন্ধ্যাবেলা থেকেই ধারাবাহিক গুলি দেখার জন্য টেলিভিশনের সামনে বসেন। তাই ধারাবাহিক বিনোদন জগতের একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এই ধারাবাহিক জগতে এমন অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী রয়েছেন যারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকের মনে দাগ কেটে গিয়েছেন। সেরকম একজন জনপ্রিয় সুন্দরী অভিনেত্রী হলেন বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় (Basabdatta Chatterjee)।
দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী। জি বাংলার এক সময়কার অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক বয়েই গেলো -এর কথা আশা করি এখনো মনে আছে সকলের? সেই ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকের ঘরে ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শুরুটা কিন্তু হয়েছিল স্টার জলসার গানের ওপারে ধারাবাহিকের হাত ধরে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো পরিচালকের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন অভিনেত্রী।
কোনদিন অভিনয় জগতে আসবেন সেই পরিকল্পনা ছিল না। সানন্দা আনন্দলোকের মতো জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে হয়ে কাজ করতেন। তারপরে সেখান থেকে হঠাৎ অভিনয়ের সুযোগ পান। আনকোড়া অভিনেত্রী প্রথমে ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন এসবের খেলা বুঝতে পারেননি। ঋতুপর্ণ ঘোষ খুব ধৈর্য সহকারে অভিনেত্রীকে নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক টক শোতে এসে অভিনেত্রী নিজের অভিনয়ের জীবনের সেই যাত্রা পথের গল্প সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিনেত্রী জানান, ‘তথাকথিতভাবে কোন অ্যাক্টিং স্কুলে আমি কখনো অভিনয় শিখিনি। তখন সবাই নিজের নিজের পোর্ট ফোলিও নিয়ে স্টুডিওতে স্টুডিওতে ঘুরে বেড়াত কাজের জন্য। আমার যেহেতু কোন পোর্ট ফোলিও ছিল না তাই আমি যে সমস্ত ম্যাগাজিনে কাজ করতাম সেই সমস্ত ছবি নিয়েই স্টুডিওতে যেতাম কথা বলতে। আমি যখন প্রথম কাজ করতে আসি আমি জানিনা লাইট কিভাবে নিতে হয়, কিভাবে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু আমার পরিচালক এবং সহ অভিনেতা অভিনেত্রীরা কখনো বিরক্ত হয়নি। আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে, আমাকে গাইড করে দিয়েছে।’
আর পড়ুনঃ ‘আমার কখনোই নিজেকে ওদের বাড়ির মেয়ে মনে হয়নি, ওদের ব্যবহারটা…’- বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী মানালি দে!
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার শটের প্রথমদিন ঋতুদা নিজে আমার মেকআপ করিয়ে দিয়েছিলেন। আমাকে প্রথমে একজন মেকআপ করায় সেটা দেখে ঋতুদা বলেছিলেন এত বাচ্চা মেয়েকে এত মেকআপ করিয়েছো, বলে নিজেই আমার মেকআপ করিয়ে দেয়। একটু একটু ভয়ও করছিল তখন। মানুষটা এত কাছে রয়েছে আর নিজে মেকআপ করে দিচ্ছে। এটা অনেক বড় পাওনা আমার। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমি তো নতুন আমি কি পারব? আমাকে তখন বলেছিলেন, সবাই একদিন নতুন থাকে নতুন থেকে পুরোনো হয়। এভাবেই আমার যাত্রা শুরু।’

