আবার বাংলা সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া, দীর্ঘ লড়াই শেষ, কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৬৮ বছরেই মৃত্যু হল জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীর

দীর্ঘ লড়াই শেষ হল। প্রয়াত হলেন সুরের রাজা। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে গেলেন তিনি। ফুসফুসের ক্যানসার তৃতীয় পর্যায় চলছিল তার। হাসপাতালে প্রতি নিয়ত দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই চালিয়েছিলেন তিনি। বাংলা রক ব্যান্ড এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার চিকিৎসার টাকা জোগানের জন্য পথে নেমেছিলেন শিল্পীরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বাপি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এস এস কে এম হাসপাতালে।
তিনি যে আর ফিরবেন না, এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না ভক্তরা। ক্যানসারের কাছে হার মেনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৫ জুন) না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই বিখ্যাত সুরকার। যার জনপ্রিয়তা ছিল দিকে দিকে, যাকে ছাড়া ব্যান্ড কথাটাই ভাবা যায় না তিনি আর নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খবরটি নিশ্চিত করেন কলকাতার জনপ্রিয় গায়ক রূপম ইসলাম।
সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ হাসপাতালে মারা যান তিনি। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে শিল্পীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। দিন কুড়ি আগে পর্যন্তও তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষমেশ আর ফিরলেন না তিনি। দুরারোগ্য ব্যাধির কাছে পরাজয় স্বীকার করতে হল শিল্পীকে। শারীরিক অবস্থার বারবার অবনতির কারণে মাঝেমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছিল। কিন্তু এ বার আর তাঁর ফেরা হল না।
বছরের শুরুতেই জানা যায়, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি চলছে তাপসের। ঠিক ভাবে খেতেও পারছিলেন না তিনি। ওজনও কমে গিয়েছিল। তাঁর বয়স প্রায় ৭০-এর কাছাকাছি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এসএসকেএম থেকে বাপির দেহ নিয়ে আসা হবে তাঁর বাসভবনে। শিল্পীর প্রয়াণে শোকের ছায়া সঙ্গীতজগতে।

‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সমস্ত ঘোড়াই একে একে বিদায় নিয়েছেন বহুদিন আগেই। অবশেষে তিনিও হার মানলেন। বাংলার হাজার হাজার ব্যান্ড প্রেমীদের বুক শূন্য করে চলে গেলেন মহিনের শেষ ঘোড়া তাপস বাপি। থেকে গেল পৃথিবীটা নাকি, আমার প্রিয় ক্যাফে, তোমায় দিলাম, মানুষ চেনা দায়, তাকে তাড়াই যত দূরে, ভালোবাসি, ঘরে ফেরার গানের মতো বহু কালজয়ী গান।

