“আমি নিজেই ভগবান!”— নয়া বক্তব্যে ঝড় তুললেন অপরাজিতা আঢ্য! আধ্যাত্মিকতা না আত্মঅহংকার? অভিনেত্রী কথায় ‘ভন্ডামি’ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক!

প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় একেবারে ভিন্ন মেজাজে হাজির হতে চলেছেন অভিনেত্রী ‘অপরাজিতা আঢ্য’ (Aparajita Adhya) । ‘বানসারা’ (Bansara) নামের আসন্ন ছবিতে তাঁকে প্রথমবার দেখা যাবে এক নেতিবাচক মুখ্যচরিত্রে, যা তাঁর কেরিয়ারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা। এই ছবিতে অপরাজিতার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত, যিনি এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ছবির পটভূমি পুরুলিয়ার গভীর জঙ্গলঘেরা একটি কাল্পনিক গ্রাম ‘বানসারা’।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে গ্রামের এক অদ্ভুত বিশ্বাস—এই অঞ্চলের জাগ্রত বনদেবী নাকি নিজের হাতে ত্রিশূল দিয়ে অপরাধীদের শাস্তি দেন। এই দেবীর আদেশ, ইচ্ছা এবং রায় গ্রামের মানুষদের কাছে পৌঁছে দেন একমাত্র ‘বড়মা’, জমিদার পরিবারের উত্তরসূরী গৌরিকা দেবী। এই চরিত্রেই ধরা দেবেন অপরাজিতা আঢ্য। গৌরিকা একাধারে ধর্মীয় রক্ষক, আবার রাজনীতির অন্দরমহলেও তাঁর দাপট চোখে পড়ার মতো। তিনিই বানসারার জন্য কিছু কঠোর নিয়ম তৈরি করেছেন, যেগুলি যেন অলিখিত আইন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন জটিল এবং তীক্ষ্ণ চরিত্রে অপরাজিতাকে প্রথমবার দেখতে চলেছেন দর্শক, ফলে ছবিটি ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে। এই ছবি যেমন আধারে মাইথোলজিক্যাল এবং থ্রিলার ঘটনার, ব্যক্তিগত জীবনেও অপরাজিতা প্রচন্ড আধ্যাত্মিক। তিনি শান্তির আশ্রয়স্থল খুঁজে পান ভগবানের চরণে। মহা কুম্ভে স্নান থেকে শুরু করে লোকনাথ পুজো, লক্ষ্মীপূজো, এমনকি গৃহস্থ বাঙালি বাড়িতে যে সমস্ত দেবদেবীর পূজা সাধারণত হয়ে থাকে, সবই করেন অভিনেত্রী নিজের হাতে। খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলে ভগবানকে চিঠি লিখে সেই দুঃখের কথা তিনি জানান।

এমনকি অবসর সময়ের অধিকাংশই তিনি ভগবানের জন্য বরাদ্দ করেছেন। এদিন ছবির শুটিং চলাকালীন সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, সাধারণত দর্শক তাকে পজেটিভ চরিত্রে দেখতেই অভ্যস্ত প্রথমবার নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন? অভিনেত্রীর কথায়, “ইতিবাচক চরিত্রেই বরাবর অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছি, সেটা বড়পর্দা হোক কিংবা ছোটপর্দা। জলনুপুরের ‘পাখি’কে আজও দর্শক খুব ভালোবাসেন। প্রথমবার এমন নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।

তবে দর্শক দেখে জানাবেন তাদের কেমন লাগলো।” এরপর প্রশ্ন করা হয়, পর্দার বাইরেও তিনি এই ছবির মতোই আধ্যাত্মিক, অতীতে বলেছিলেন মেডিটেশন করলে মানসিক শান্তি পান, এছাড়াও কি কি করেন নিজেকে আরও পরিণত করতে অভিনেত্রী? অপরাজিতার কথায়, “ভগবানকে নিজের সবটুকু দিতে পারলে তবেই পরিণতি সম্ভব। ভবিষ্যতে আমি নিজের ১০০ শতাংশ সময় ভগবানকেই দিতে চাই।” অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি ‘আমিই ভগবান’।

আরও পড়ুনঃ “রুক্মিণীর ‘বিনোদিনী’ দেখতেও চাই না!”— রুক্মিণীর ছবিকে পাত্তাই দিলেন না সুজয় প্রসাদ! অভিনেত্রীর তারকা তকমায় বি’ষাক্ত খোঁচা! রুক্মিণীকে নিয়ে এত রাগ কেন? 

এই উপলব্ধি যতদিন না নিজের মধ্যে আসবে, যতদিন না নিজের মধ্যে ভগবানকে খুঁজে পাওয়া যাবে ততদিন ভগবানে বিলীন হওয়া সম্ভব নয়।” এদিন ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থান নিয়েও অপরাজিতাকে প্রশ্ন করা হয়। জিজ্ঞেস করা হয়, আগের প্রজন্ম ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটা বড় ফারাক কি? অভিনেত্রী বলেন, “নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্থিরতা, অনুভব এবং ধৈর্য কম। আমাদের সময় এই তিনটেই ছিল বলে আজ অব্দি আমরা টিকে আছি, তবে সময় এগিয়েছে সেই অনুযায়ী সবটা খারাপ বলা উচিত না।”

Back to top button