‘এত বড় গায়ক তাও বাচ্চাদের মতন সকালবেলা…’ গায়কের জন্মদিনে অনুপম রায়ের উত্থানের গল্প বললেন গুরু!

প্রথমবার অনুপম রায়ের গান শোনা ‘অটোগ্রাফ’ ছবির একটি জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে। তখনও তাঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা ছিল না, এমনকি সামনাসামনিও দেখা হয়নি। ২০১২ সালে আমেরিকার ন্যাশভিলে একটি বঙ্গমেলায় প্রথম দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। সেদিন একই মঞ্চে অনুপমের গান আর সরোদ পরিবেশনা ছিল। দূরদেশে বসেও দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখে অবাক হতে হয়। প্রায় সবাই অনুপমের গান মুখস্থ করে গাইছিলেন। সেই মুহূর্তেই বোঝা গিয়েছিল, তাঁর জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যাবে।

এর কিছুদিন পর ‘হেমলক সোসাইটি’ ছবির একটি গানের কাজে প্রথম ঘনিষ্ঠ আলাপ হয়। সেই গানটিতে লোপামুদ্রা মিত্র ও রূপঙ্কর বাগচী কণ্ঠ দিয়েছিলেন, আর সরোদের সঙ্গত প্রয়োজন ছিল। কাজের সময় অনুপমের ব্যবহার ও ভদ্রতা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হয়েও তিনি অত্যন্ত বিনয়ীভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। কাজ শেষে নিজের হাতে সরোদ তুলে দেওয়ার মতো আচরণ সত্যিই বিরল। তখনই মনে হয়েছিল, তাঁর শিক্ষাদীক্ষা ও মানসিকতা অন্যদের থেকে আলাদা।

কিছুদিন পর অনুপম নিজেই গান শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে অবাক লাগলেও তাঁর আগ্রহ ও আন্তরিকতায় শেষ পর্যন্ত রাজি হতে হয়। তিনি জানতেন তাঁর কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সেই জায়গাগুলো উন্নত করতে চান। এরপর নিয়মিত রেওয়াজ শুরু করেন তিনি। ইলেকট্রনিক তানপুরা নিয়ে একেবারে শুরু থেকে চর্চা করতে থাকেন। প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হয়েও নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এই মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সময় যেতে দেখা যায়, তাঁর গানের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। নিয়মিত অনুশীলন এবং শেখার ইচ্ছা তাঁকে আরও পরিণত করেছে। ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে তিনি নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন। নিজের কাজ নিয়েও আলোচনা করেন এবং নতুন নতুন পরীক্ষার দিকেও এগিয়ে যান। এই ধারাবাহিক উন্নতি তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুনঃ একান্তে কথা বলতেই গলল মনের বরফ! বড়দের আশীর্বাদ নিয়ে আবারও এক ছাদের তলায় মিঠি ও কৃশানু! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

আজ প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলা গানের জগতে সক্রিয় অনুপম রায়। এত বছরেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মেধা, শৃঙ্খলা এবং শেখার আগ্রহ। যেকোনো কাজ তিনি মন দিয়ে করেন এবং নিয়ম মেনে এগিয়ে চলেন। এই গুণগুলোই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাঁর সাফল্যের পথ আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Back to top button