‘ভোর হওয়া অব্দি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কোণায় বসেছিলাম…’ বিজেপি করার অপরাধে ইটের আঘাত! ভাঙচুর করা হয়েছিল ঘরের জানলা দরজা! ১৪ বছরের লড়াইয়ের অজানা গল্প শোনালেন অঞ্জনা বসু!

বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত সুপরিচিত নাম অঞ্জনা বসু (Anjana Basu)। পেশাগত জীবনে বাংলা চলচ্চিত্র এবং একাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন দায়িত্বশীল মা। একদিকে নিজের অভিনয় জীবন, আর অন্যদিকে পরিবার দুটোই তিনি সমান্তরালভাবে সামলে আসছেন। কাজের সূত্রে শিল্পজগতে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন।

রাজনীতিতে অঞ্জনা বসুর আগমন সহজ বা মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সাথে যুক্ত। তিনি যখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেই সময় রাজ্যে দলটির অস্তিত্ব বা রাজনৈতিক প্রভাব আজকের মতো এত জোরালো ছিল না। সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতে হেঁটে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন এবং দীর্ঘ দিন ধরে এই ময়দানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক লড়াইয়ে গিয়ে তাঁকে যে সমস্ত অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়ংকর। তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, বিজেপি করার অপরাধে একবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা চালানো হয়। রাতের অন্ধকারে আস্ত বাড়ির জানলার কাঁচ ইট মেরে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ভীতিকর পরিস্থিতিতে নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত ঘরের এক কোণায় বসে দিন কাটিয়েছিলেন এবং সকালে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। এমনকি ট্রেন বা স্টেশনে সাধারণ মানুষের কাছে কাকে ভোট দেওয়া উচিত আর কাকে দেওয়া উচিত নয় এমন প্রচারের সময়ও তিনি স্পষ্ট রাজনৈতিক বিদ্বেষের মুখোমুখি হন।

নির্বাচনে লড়াই করা এবং সোনারপুরের মতো রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন যে, তৃণমূলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্বও ভালোভাবেই জানত তিনি সেই দিনগুলোতে কীভাবে লড়াই করেছেন। তাঁর মতে, কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ এবং মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। অঞ্জনা দেবী স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিকভাবে যত প্রতিকূল পরিস্থিতিই আসুক না কেন, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে ময়দানে টিকে থাকার অদম্য ইচ্ছে তাঁর প্রথম থেকেই ছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘প্রশ্নফাঁস নতুন কিছু নয়, এত আবেগপ্রবণ হলে চলে?’ ‘যে সব আরশোলা, পোকামাকড়রা সোনম ওয়াংচুকে ভুল বোঝাচ্ছে আগে তাদের দূরে করুন!’ সোনম ওয়াংচুক থেকে যন্তর মন্তর আন্দোলন, নিজের বক্তব্য স্পষ্ট জানালেন রুদ্রনীল ঘোষ! ‘আমি কিছুই জানি না, জানতেও চাই না!’ কি বললেন রূপা গাঙ্গুলী?

প্রতিবেদনের শেষভাগে অঞ্জনা বসু একজন পশ্চিমবঙ্গবাসী ও সাধারণ নাগরিক হিসেবে সরকারের কাছে নিজের আশার কথা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জনগণের উচিত নিজেদের দাবিদাওয়া সব সময় সরকারের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। সাধারণ মানুষকে নিরাশ না হয়ে সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার নিশ্চয়ই রাজ্যবাসীর কথা ভেবে ভালো কাজ করবে।

Back to top button