‘প্রশ্নফাঁস নতুন কিছু নয়, এত আবেগপ্রবণ হলে চলে?’ ‘যে সব আরশোলা, পোকামাকড়রা সোনম ওয়াংচুকে ভুল বোঝাচ্ছে আগে তাদের দূরে করুন!’ সোনম ওয়াংচুক থেকে যন্তর মন্তর আন্দোলন, নিজের বক্তব্য স্পষ্ট জানালেন রুদ্রনীল ঘোষ! ‘আমি কিছুই জানি না, জানতেও চাই না!’ কি বললেন রূপা গাঙ্গুলী?

দিল্লির সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতি, আন্দোলন ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকট নিয়ে সম্প্রতি নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh) এবং অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ রূপা গাঙ্গুলী (Roopa Ganguly)। সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিও বার্তায় দুজনেই বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলন এবং দিল্লিতে উদ্ভূত সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সোনাম ওয়াংচুর সাহেবের যাদের ইচ্ছা বা তার দাবি, সেটা না রাজনীতিকরণ করিয়ে ওনার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করবার জন্য একটা পরিকল্প ষড়যন্ত্র চলছে”। আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “রাহুল বাবু বা অন্যান্য যে রাজনৈতিক দল আসলে যে এটা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার বলে প্রচার যে করে দিচ্ছেন, তাতে কিন্তু সোনাম বাবুর উপরে একটা সন্দেহ তৈরি হয়ে যাচ্ছে”।
শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম এবং তার জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া মানসিক সংকট নিয়ে রুদ্রনীল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রশ্নফাঁস ও তার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের চরম পদক্ষেপ নেওয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “বিভিন্ন কারণে প্রচুর মানুষ এই ধরনের ঘটনায় যারা একটু দুর্বল হন, একটু অনুভূতি প্রবণ হন, তারাও অনেক সময় অনেক কান্ড ঘটিয়ে ফেলেন যা দুর্ভাগ্যজনক এবং সেটা কখনো হওয়া উচিতই নয়”। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোন রকম কোন ঘটনা ঘটে, সেই ক্ষেত্রে এক করা তদন্তর জায়গা হওয়ার দরকার”।
অন্যদিকে, দিল্লির পরিস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রশ্নে অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী এক ব্যতিক্রমী ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেন। যে বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান বা স্পষ্ট ধারণা নেই, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি সোজাসুজি অস্বীকার করেন। নিজের মতামত প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের সবারই একটা ধারণা আছে সাধারণভাবে যে আমরা যাদেরই অর্থাৎ যাদেরকে ক্যামেরায় ধরা হয় কোন কিছু প্রশ্ন করার জন্য, তারা সর্ববিষয় জ্ঞানী”। না জেনে মন্তব্য না করার এই সংস্কৃতিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি আপনাদের কাছে করজোরে জানাচ্ছি, আমি এই বিষয় সম্বন্ধে এক লাইনও খবর রাখিনি, রাখতে চাইনি”।
আরও পড়ুনঃ ‘মোটা চেহারা নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবে কীভাবে?’ কটূক্তি থেকে মানসিক নি’র্যাতন, ১১ বছরের চরম ট্র’মা! ‘ভেঙে পড়ার অনেক কারণ ছিল, কিন্তু আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম…’ সব পেরিয়ে বাজিমাত! জেনে নিন সঙ্ঘশ্রী সিনহা মিত্রর অভিনেত্রী হয়ে ওঠার লড়াই!
পরিশেষে, দুই শিল্পীর বক্তব্য থেকে সমাজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। একদিকে রুদ্রনীল ঘোষ আন্দোলনকে রাজনীতিকরণ না করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবেগের বশে কোনো ভুল পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সচেতন করেছেন। অন্যদিকে, রূপা গাঙ্গুলী না জেনে যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের এক অনন্য বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের এই বার্তাগুলি বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ অর্থ বহন করে।

