“অভিনয় করতে না পারাটা যন্ত্রণার, কিন্তু…এঁরা যেন আমার হয়ে ক্ষমা না চান, ক্ষমা মানুষ অন্যায় করলেই চায়”—ফেডারেশন বিতর্কে অনমনীয় অনির্বাণ!

সমকালীন বাংলা চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের জগতে অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya) একটি অনন্য প্রতিষ্ঠানের নাম। মেদিনীপুরের এক মফস্বল শহর থেকে উঠে এসে কলকাতার মঞ্চ কাঁপানো এই অভিনেতা নিজেকে কেবল একজন তারকা হিসেবে আটকে রাখেননি, বরং অভিনয়ের সংজ্ঞাকে বারবার নতুন করে লিখেছেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার চর্চা থেকে শুরু করে মন্দার বা ‘তালমার রোমিও জুলিয়েট-এর পরিচালক হয়ে ওঠা অনির্বাণের সফরটি একাধারে সংগ্রাম, মেধা এবং আপসহীন সৃজনশীলতার গল্প।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলের জনপ্রিয় পডকাস্ট সিরিজ-এ উপস্থিত হয়েছিলেন। তার সাথে ছিলেন সংগীত পরিচালক ও গায়ক শুভদীপ গুহ। ফেডারেশনের সাথে সেই ঝামেলার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর কাজ পাওয়া বা কাজের পরিবেশ নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই নিয়ে অভিনেতা সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন অভিনেতা।
ফেডারেশন ও অনির্বাণের মধ্যকার শীতল লড়াই মেটাতে যখন দেব, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (বুম্বাদা) বা রাজ চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বরা এগিয়ে এসেছেন, তখন অনির্বাণ তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। “দেবের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। শুধু দেব নয়, বুম্বা দা ও রাজ দাও একইভাবে আমার জন্য বলেছেন। আমি তাঁদের সকলের কাছেই কৃতজ্ঞ। এবং তাঁরা যা বলছেন তা আমার প্রতি তাঁদের অপত্য স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বলছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু একটাই কথা স্পষ্ট করতে চাই, ক্ষমা মানুষ অন্যায় করলে চায়। আমি এঁদের প্রত্যেককেই বলব এঁরা যেন আমার হয়ে ক্ষমা না চান। সমস্যাটা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করতে পারেন এবং তাতে আমিও শামিল হতে পারি। আমি তো আলোচনাবিরোধী নই। কিন্তু ক্ষমা জিনিসটা অনেক বড় জিনিস।”
আরও পড়ুনঃ ষ’ড়যন্ত্রের শেষ চাল! গায়ে হলুদের আসরে হাতে অ্যা’সিডের বোতল নিয়ে হাজির সমরেশ! থমথমে রায়ানের পরিবার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারটি কেবল একটি ব্যক্তিগত লড়াইয়ের বয়ান নয়, বরং তা বর্তমান টলিউডের অন্দরে চলতে থাকা এক গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। একজন সৃজনশীল শিল্পী যখন স্রেফ ‘অন্যায়’ খুঁজে না পাওয়ার কারণে মাথা নত করতে অস্বীকার করেন, তখন তা ইন্ডাস্ট্রির বিদ্যমান নিয়মাবলি ও সংগঠনের আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়। দেব বা রাজ চক্রবর্তীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, অনির্বাণের অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করেছে যে আত্মসম্মানবোধ তাঁর কাছে সাফল্যের চেয়েও বড়।

