চিরতরে থেমে গেল এক প্রতিবাদী কণ্ঠ! প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের কুকীর্তি সামনে এনেছিল তাঁর ‘ভবিষ্যতের ভূত’! বারংবার হুমকির শিকার হয়েছেন অনীক দত্ত! পরিচালকের অকাল মৃ’ত্যুর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে কোন রহস্য?

বাংলা সিনেমার এক সাহসী এবং স্পষ্টভাষী মুখ ছিলেন অনীক দত্ত। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শুধু একজন পরিচালকের প্রয়াণ নয়, অনেকের কাছে যেন প্রতিবাদী এক কণ্ঠস্বর থেমে যাওয়ার নাম। গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। কিন্তু তাঁর জীবন, কাজ এবং বক্তব্য বারবার প্রমাণ করেছে তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে জানতেন না।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় দক্ষিণ কলকাতার একটি বুথের সামনে প্রকাশ্যে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন অনীক দত্ত। তাঁর দাবি ছিল, নিয়মবিরুদ্ধ প্রচারের প্রতিবাদ করায় তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। সেই ঘটনার পর তিনি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না। রাজনৈতিক চাপ বা আক্রমণের মাঝেও নিজের অবস্থানে অটল থাকার জন্য অনেকেই তাঁকে সম্মান করতেন।
এর আগেও একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন তিনি। ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নোত্তরের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আবার ২০১৮ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সরকারি প্রচারের সমালোচনা করে সরব হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ঘিরেও বড় বিতর্ক তৈরি হয়। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। যদিও এসব বিষয়ে নানা মত ছিল, তবু অনীক দত্ত নিজের বক্তব্য থেকে কখনও সরে আসেননি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘অপরাজিত’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ কিংবা ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ শুধু সিনেমা নয়, সমাজকে অন্যভাবে দেখার এক জানলা হয়ে উঠেছিল। তাঁর ছবিতে ছিল ব্যঙ্গ, প্রতিবাদ, রসবোধ এবং মধ্যবিত্ত জীবনের বাস্তব ছবি। বাংলা সিনেমায় নিজের আলাদা ভাষা তৈরি করেছিলেন তিনি। তাই তাঁর মৃত্যুতে শুধু একজন পরিচালককে নয়, এক চিন্তাশীল সাংস্কৃতিক কণ্ঠকেও হারাল বাংলা।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! বহুতল থেকে পড়ে মা’রা গেলেন পরিচালক অনীক দত্ত! রক্তা’ক্ত দেহ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও হয়নি শেষ রক্ষা! নিছক দুর্ঘটনা নাকি খু’ন? চলছে তদন্ত!
আজ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টলিউডের অন্দর, সর্বত্রই শোক আর আবেগ। বহু মানুষ লিখছেন, অনীক দত্ত ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি ক্ষমতার সামনে মাথা নত করেননি। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত চলবে, উত্তর হয়তো একদিন মিলবেও। কিন্তু যাঁরা তাঁর কাজ এবং বক্তব্যকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের কাছে তিনি থেকে যাবেন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে, সত্য কথা বলার সাহস হয়ে।

