‘এটাই আমাদের শেষ হাতিয়ার!’ চ্যানেল ও প্রযোজকদের চরম হুঁশিয়ারি অভিনেত্রী অনন্যা চ্যাটার্জির! কি করতে চলেছে টলিউড?

জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী অনন্যা চ্যাটার্জি (Ananya Chatterjee) বাংলা অভিনয় জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত এবং শক্তিশালী মুখ। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘আবহমান’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করা থেকে শুরু করে জি বাংলার কালজয়ী ধারাবাহিক ‘সুবর্ণলতা’-র নামভূমিকায় অভিনয় করে তিনি আপামর বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমানে তাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে দেখা যাচ্ছে। অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি অনন্যা স্পষ্টবক্তা হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি টলিউডের তরুণ অভিনেতা রাহুলের অকাল প্রয়াণ এবং তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্টুডিও পাড়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে তিনি নিজের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, যা ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিউডের অন্দরে যে চঞ্চলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনন্যা চ্যাটার্জি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান যে রাহুলের এই আকস্মিক দুর্ঘটনা এবং একটি তরতাজা প্রাণের অকাল চলে যাওয়া গোটা শিল্পী সমাজকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অনন্যার মতে, এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। একজন সহকর্মীকে এভাবে হারানো যে কোনো শিল্পীর পক্ষেই অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। এই ঘটনার পর থেকেই স্টুডিও পাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবং অনন্যা সেই শোকাতুর আবহে দাঁড়িয়ে শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তার দাবিকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন।

বর্তমান সময়ে টলিউডে যে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে অভিনেত্রী এক বাস্তবসম্মত ও কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে কোনো শিল্পীই আসলে কাজ বন্ধ রাখতে চান না, কারণ শুটিং বন্ধ থাকার পরিণাম বা ‘কনসিকুয়েন্সেস’ অনেক গভীর এবং এর প্রভাব অনেকের ওপর পড়ে। তা সত্ত্বেও যখন পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয় না বা জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তখন এই কর্মবিরতিই তাদের কাছে ‘শেষ হাতিয়ার’ হয়ে দাঁড়ায়। অনন্যার কথায়, যখন পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায় এবং একটি জীবন বাঁচানো সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখনই শিল্পীরা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

শুটিং সেটের পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অনন্যা চ্যাটার্জি বলেন যে শুধু আউটডোর শুটিং নয়, স্টুডিওর ভেতরের ফ্লোরগুলোও অনেক সময় যথেষ্ট নিরাপদ থাকে না। সেখানেও ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে যা আড়ালে থেকে যায়। এই সমস্যা সমাধানে তিনি প্রযোজক, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের কাছে একটি নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) বা সেফটি প্রোটোকল তৈরি করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিধি তৈরি হচ্ছে এবং তা কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘লীনা গাঙ্গুলীর অনুমতি ছাড়া একটা পাতাও নড়ে না, তাহলে রাহুল ম’রল কীভাবে?’ অম্বরীশ-রেশমীর পাল্টা তো’প!

অনন্যা চ্যাটার্জি শিল্পীদের এই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পেছনের মূল উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো ‘রাহুল’-কে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের এক টেবিলে বসে একটি শক্তিশালী সিকিউরিটি প্রোটোকল তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিটি টেকনিশিয়ান এবং শিল্পী নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন। বর্তমান এই আন্দোলন বা দাবি আদায়ের লড়াই আসলে টলিউডের কাজের পরিবেশকে আরও উন্নত এবং নিরাপদ করার একটি সম্মিলিত প্রয়াস বলেই তিনি মনে করেন।

Back to top button