‘মুখ ফুটে কখনো বলেননি প্রাউড…’ ‘উপার্জনের সব টাকা তুলে দিতাম বাবার হাতে!’ ভাড়াবাড়িতে কেটেছে জীবন, ছেলের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন বুকে নিয়েই চলে যান বাবা! আবেগপ্রবণ যীশু সেনগুপ্ত!

টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সফল অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত (Jisshu Sengupta) আজ শুধু বাংলাতেই নয়, জাতীয় স্তরেও নিজের অভিনয়ের দাপট বজায় রেখেছেন। তবে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর পেছনে যে মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন তাঁর প্রয়াত পিতা উজ্জ্বল সেনগুপ্ত। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তাঁর বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। যীশু জানান, তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলোতে বাবা কখনো সরাসরি তাঁর সামনে কোনো প্রশংসা বা গর্ব প্রকাশ করেননি, কিন্তু আড়ালে যে তিনি ছেলের জন্য কতটা গর্বিত ছিলেন, তা আজ অভিনেতার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।

অভিনেতা তাঁর স্মৃতির পাতা উল্টে জানান যে, থিয়েটার করার সময় বা পরবর্তীতে রুপোলী পর্দায় কাজ শুরু করার পরও তিনি কখনো নিজে থেকে বাবাকে জিজ্ঞেস করার সাহস পাননি যে তাঁর অভিনয় বাবার কেমন লেগেছে। এক অদ্ভুত নীরবতা বজায় থাকত বাবা ও ছেলের এই সম্পর্কের মাঝে। বাবাও কখনো সামনাসামনি এসে বলেননি যে তিনি ছেলের কাজে অত্যন্ত খুশি বা প্রাউড ফিল করছেন। কিন্তু এই নীরবতার আড়ালে যে এক গভীর পিতৃস্নেহ এবং সন্তানের সাফল্যের আনন্দ লুকিয়ে ছিল, তা যীশু জানতে পারেন তাঁর বাবার আকস্মিক চলে যাওয়ার পর।

উজ্জ্বলবাবু বিনোদন জগতের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন, বিশেষ করে ‘সিনেটেল’ সংস্থার প্রায় সবার সাথেই তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। বাবার মৃত্যুর পর যীশু যখন সেখানে যান, তখন স্টুডিওপাড়ার প্রবীণ ও সিনিয়র ব্যক্তিত্বরা তাঁকে এক অজানা সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করান। তাঁরা জানান, উজ্জ্বলবাবু আড়ালে সুযোগ পেলেই সবার কাছে ছেলের অভিনয়ের প্রশংসা করতেন। ক্যামেরার সামনে নিজের আবেগ প্রকাশ না করলেও, ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের আড্ডায় তিনি যে একজন গর্বিত পিতা ছিলেন, সেই গল্পই সকলের মুখে শুনতে পান যীশু।

যীশু ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার ভাড়াবাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের নামডাক এবং কাজের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাবার মনেও একটি সুপ্ত ইচ্ছে দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। তিনি সিনেটেলের অত্যন্ত পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব অজিতদার কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন, “যীশুর তো এখন বেশ নাম হয়েছে, এবার ওর একটা নিজের ফ্ল্যাট কেনা দরকার; টালিগঞ্জের আশেপাশে কম দামের মধ্যে ভালো কোনো ফ্ল্যাটের খোঁজ থাকলে একটু দেখিস।” ছেলের মাথা গোঁজার একটা স্থায়ী আস্তানা তৈরি করার স্বপ্নটাই তখন ছিল সেই বাবার একমাত্র লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ আচমকা হাসপাতালে ভর্তি পাপিয়া অধিকারী! সফল মাইক্রো সার্জারির পর এখন কেমন আছেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রী?

সেই সময়ে যীশু তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে উপার্জিত সমস্ত অর্থই কোনো দ্বিধা ছাড়া বাবার হাতে তুলে দিতেন, শুধু নিজের দৈনন্দিন খরচের জন্য সামান্য কিছু ক্যাশ টাকা নিজের কাছে রাখতেন। তাঁর বাবাও সেই টাকা অত্যন্ত যত্ন সহকারে জমাচ্ছিলেন ছেলের সেই স্বপ্নের বাড়িটি কিনে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে, সেই টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার কাজ শুরু হওয়ার আগেই উজ্জ্বলবাবু এই পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নেন। বাবার এই অসমাপ্ত স্বপ্ন এবং আড়ালে লুকিয়ে রাখা গভীর ভালোবাসার কথা মনে করে যীশু আজও অনুভব করেন যে, তাঁর বাবা দূর থেকেই তাঁর সমস্ত সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান।

Back to top button