‘বরাবরই একটা অমানবিক প্রযোজনা সংস্থা’ ‘আর কাজ করব না লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে…’ রাহুলের মৃ’ত্যুর বিচার চেয়ে ম্যাজিক মোমেন্টস ত্যাগ করলেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য!

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক প্রয়াণের এক সপ্তাহ পর নীরবতা ভাঙলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য। শোকস্তব্ধ অম্বরীশ বর্তমানে সমাজমাধ্যমের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাহুলের শেষকৃত্যে উপস্থিত না থাকায়। সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে অভিনেতা সাফ জানান, প্রিয় সহকর্মীর মৃত্যুতে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে এতটাই বিধ্বস্ত ছিলেন যে, সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিছক সংবেদনশীলতার অভাব নয়, বরং এক গভীর মানসিক শক থেকেই তিনি নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন।

রাহুলের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই অম্বরীশ এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা অনেকেরই অজানা ছিল। তিনি জানান, ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনা সংস্থার যাবতীয় কাজ থেকে তিনি স্থায়ীভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি দিয়ে তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি চলতি ধারাবাহিক ‘চিরসখা’-র কাজও তিনি আর করবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন। অম্বরীশের মতে, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত নয়, সেখানে কাজ করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয় এবং এই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই তিনি কাজ ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস এবং লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অম্বরীশ। তাঁর মতে, প্রথম থেকেই সংস্থার পক্ষ থেকে যে ধরনের বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তা ছিল অপরিণামদর্শী এবং অসংবেদনশীল। একটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ার পর যেভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য পেশ করা হয়েছে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপত্তার দাবিতে তিনি আন্দোলনকারী টেকনিশিয়ান ও শিল্পী মহলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তদন্ত চলাকালীন প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন সিজন বা প্রজেক্ট ঘোষণার বিষয়টিকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অম্বরীশ। শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে কাজের প্রচার শুরু করাটা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য এবং অসহ্য মনে হয়েছে। তাঁর মতে, যখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি বিচার চাইছে এবং একজন সহকর্মীর মৃত্যুতে শোক পালন করছে, তখন এমন ব্যবসায়িক তৎপরতা কোনোভাবেই হজম করা সম্ভব নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের মানসিকতার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘ড্রোন ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে ক্রু কোথায় ছিল!’ রাহুলের মৃ’ত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি চরম গাফিলতি? উঠে এলো বিস্ফোরক তথ্য!

স্মৃতিভারাতুর অম্বরীশ আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে রাহুল নেই। শুটিংয়ের অবসরে গান, থিয়েটার এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের যে আড্ডা চলত, তা আজ কেবলই স্মৃতি। অভিনেতা স্পষ্ট জানান, আপাতত তাঁর কোনো শুটিং করতে ইচ্ছে করছে না। এতে তাঁর বড়সড় আর্থিক ক্ষতি হলেও, তিনি এই মুহূর্তে জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেই বড় করে দেখছেন। দর্শকদের কাছে দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি মুখ খুললেন এবং জানিয়ে দিলেন যে, পিঠ বাঁচিয়ে চলা নয় বরং নিজের নীতিতে অনড় থেকেই তিনি এই লড়াইয়ের পাশে আছেন।

Back to top button