ভিক্টোরিয়ায় ‘ভাঙের পাঁপড়’ খেতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন অভিনেতা অম্বরীশ! সঙ্গে ছিলেন কে? জানলে চমকে যাবেন আপনিও!

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ধারে নাকি এখনও নানা মজার কাহিনি ঘোরাফেরা করে। তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য, যখন শুটিংয়ের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে থাকা এক মহাতারকা নিজেই খুলে ফেললেন নিজের দুষ্টুমি-ভরা অতীতের গল্প— যেখানে আছে ‘ভাঙের পাঁপড়’, পুলিশ, আর একটুখানি ভাগ্যের খেলা!
অম্বরীশ জানান, সম্প্রতি এক বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য তাঁকে মুম্বই থেকে ফোন করা হয়। সময় মেলানো নিয়ে যখন কথা হচ্ছিল, তখন তাঁকে স্পষ্ট জানানো হয়— এই তারিখ একটুও বদলানো যাবে না। কারণ, যাঁর সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁর দিন-তারিখ বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না। প্রথমে অবাক হলেও পরে পরিচালক প্রদীপ সরকারের মুখে নাম শুনে স্তব্ধ হয়ে যান অম্বরীশ— তিনি আর কেউ নন, অমিতাভ বচ্চন!
“প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ ঠাট্টা করছে,” বলেন অম্বরীশ। “সত্যি জানার পর তো অন্য কাজ বাদ দিয়েই ওঁর জন্য গোটা মাস ফাঁকা রাখলাম।” শুটিংয়ের দিন সকালেই নার্ভাস হয়ে ছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেটে পৌঁছে দেখলেন, এই কিংবদন্তি মানুষটি আচরণে একেবারে সহজ-সরল। সংলাপে হালকা ভুল হলে নিজেই বলেন, “আর একবার দেব।” পরিচালক বলেন, দরকার নেই— কিন্তু তিনি থামেন না। হাসতে হাসতে বলেন, “আমি তো হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের ছাত্র। যত বার মহড়া দিতে হয় দাও, কিন্তু শটে ভুল চলবে না!”
তারপরই আসে সেই মজার গল্প। কথায় কথায় অমিতাভ জানালেন, কলকাতায় চাকরি করার সময় প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ধারে যেতেন। “ওখানে ভাঙের পাঁপড় বিক্রি হত,” বলেন তিনি। “একদিন খেয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে এমন বেসামাল হলাম যে পুলিশ ধরে ফেলল! ভাগ্যিস, থানায় রাত কাটাতে হয়নি!” পুরো সেট তখন হাসিতে ফেটে পড়ে।
আড্ডা ঘুরে যায় বর্তমানের দিকে। সময়ের সঙ্গে তাল মেলানো নিয়েই অমিতাভ বলেন, “সমসাময়িক থাকতে পারলেই টিকে থাকা যায়। আমি এখনো শিখছি, এখনো জানছি।” নিজের ফোনে একের পর এক অ্যাপ দেখিয়ে জানান, “বিশ্বের খবর হাতের মুঠোয় রাখতেই এসব ডাউনলোড করেছি।” বাংলা সিরিজ, ওটিটি থেকে শুরু করে ছোটপর্দার কাজ— সব বিষয়ে তাঁর আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছিলেন অম্বরীশ।
অভিনেতার কথায়, “ওঁর সাফল্যের রহস্য শুধু প্রতিভা নয়, সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর এক অদম্য ইচ্ছা। তাই আজও তিনি একা নিজের কক্ষপথে ঘুরছেন— অনন্য, অপ্রতিদ্বন্দ্বী।”

