‘লীনা গাঙ্গুলীর অনুমতি ছাড়া একটা পাতাও নড়ে না, তাহলে রাহুল ম’রল কীভাবে?’ অম্বরীশ-রেশমীর পাল্টা তো’প!

সম্প্রতি অভিনেতা রাহুলের (Rahul Banerjee) রহস্যময় এবং মর্মান্তিক মৃত্যুতে টলিউডের বিনোদন জগতে এক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনার পর থেকেই কাঠগড়ায় উঠেছে জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’। শুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাব এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্টুডিওপাড়ার শিল্পীরা। বিশেষ করে দীর্ঘ ১০ বছর এই সংস্থার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকার পর অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পর মানসিকভাবে তিনি এতটাই বিধ্বস্ত যে ওই সংস্থার সাথে আর কোনো কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
অম্বরীশ ভট্টাচার্য এবং অভিনেত্রী রেশমী একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন। অম্বরীশ জানান, গত দু-মাস ধরে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন রাহুলের সাথে তার এক নিবিড় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তারা একই মেকআপ রুম ভাগ করে নিতেন এবং শুটিংয়ের ফাঁকে কুইজ খেলা বা সাহিত্য নিয়ে আড্ডা দিতেন। রাহুলের এই অকাল চলে যাওয়া অম্বরীশের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, যে করিডোর বা স্টুডিওতে রাহুলের সাথে এত স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেখানে ফিরে গিয়ে অভিনয় করা তার পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতিতে একেবারেই অসম্ভব। তাই তিনি সংস্থার সাথে চুক্তিভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সাক্ষাৎকারে সবথেকে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রযোজনা সংস্থার বয়ান নিয়ে। রেশমী এবং অম্বরীশ দুজনেই দাবি করেছেন যে, দুর্ঘটনার পর সংস্থার পক্ষ থেকে যেভাবে রাহুলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রেশমী প্রশ্ন তোলেন, যেখানে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্যের একটি শব্দও লেখকের অনুমতি ছাড়া বদলানো যায় না, সেখানে একজন অভিনেতা নিজের ইচ্ছায় বিপজ্জনকভাবে জলের গভীরে চলে যাবেন এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তাদের মতে, ড্রোনে শট নেওয়ার সময় আলাদা টেকনিশিয়ান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক, কিন্তু সেইদিন সঠিক কী ঘটেছিল তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গিয়েছে।
শুটিং সেটে অভিনেতাদের এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন ‘SOP’ বা নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরির দাবি উঠেছে। অম্বরীশ জানিয়েছেন, অভিনেতা ফোরামের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে না যায়। তিনি আরও বলেন যে, যতক্ষণ না একটি সুস্থ সমাধান এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তিনি কোনো মেগা ধারাবাহিকে কাজ করবেন না। তাদের দাবি, কোনো বড় প্রজেক্টের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি এবং এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ ‘ভীষন ভাবে অবহেলার শিকার…ভুল স্বীকার করছি! ‘আর চুপ থাকতে…!’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু মানতে পারলেন না মানসী সিনহা! কর্মজীবন নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত অভিনেত্রীর!
সবশেষে, প্রেস এবং মিডিয়ার কাছেও একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন অম্বরীশ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় যারা রাহুলের সাথে ছিলেন, বিশেষ করে অভিনেত্রী শ্বেতা, তারা এখন প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। তাই তাদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তদন্তের স্বার্থে যা সত্যি তা নিশ্চয়ই সামনে আসবে বলে তারা আশাবাদী। আপাতত টলিউডের এই সংকটের দিনে শিল্পীরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

