মৃণাল সেনের ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে উত্তম কুমারের সঙ্গে মৌচাক, প্রতিটা চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন রঞ্জিত মল্লিক! এখনো অগুন্তি ভক্ত রয়েছে বাংলা সিনেমা প্রেমি দর্শকদের মধ্যে, তবু আর দেখা যায় না বাঙালির বেল্ট ম্যানকে আজ জানবো তার সম্বন্ধে

বাংলা সিনেমা জগতের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হল রঞ্জিত মল্লিক। যাকে বহু বছর ধরে বাংলার সিনেমা প্রেমী দর্শকরা জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিতে দেখেছেন। একজন অভিনেতার পাশাপাশি তিনি যে একজন কত বড় মনের মানুষ তার পরিচয়ও বহুবার পেয়েছে দর্শকরা। মৃণাল সেনের ‘ইন্টারভিউ’ ছবি থেকে নিজের অভিনয় জীবন শুরু করে বাংলা সিনেমা জগতে অসামান্য কৃতিত্ব রচনা করেছেন তিনি।
বর্তমানে তাকে আর সেভাবে অভিনয় করতে দেখা যায় না। তবে তার মেয়ে কোয়েল মল্লিক ২০০১ সালের পর থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে অসাধারণ প্রতিভাবান একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। রঞ্জিত মল্লিক ২৮শে সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভবানীপুরের মল্লিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। এই বাড়ির দুর্গা পূজার জন্য বিখ্যাত। তার ডাকনাম রঞ্জু। তিনি আশুতোষ কলেজ এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্যামাপ্রসাদ কলেজ থেকে পাস করেন।তার পিতামহ বাঙালী বিজ্ঞানী ইন্দুমাধব মল্লিক এবং পিতা শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রচন্দ্র মল্লিক।
তিনি ১৯৭১ সালে মৃণাল সেনের ছবি ছবি ‘ইন্টারভিউ’ থেকে নিজের অভিনয় জীবন শুরু করেন আর প্রথম ছবিতেই আন্তর্জাতিক ক্যালভি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। তারপর থেকে একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেন. তিনি উত্তম কুমারের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র হিসাবে ‘মৌচাক’ ছবিতে কাজ করেছিলেন ।
বিখ্যাত ‘মৌচাক’, ‘দেবী চৌধুরানী’, ‘রাগ অনুরাগ’, ‘স্বয়ং সিদ্ধা’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে সাফল্যের সাথে অভিনয় করেন। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘শাখা-প্রশাখা’য়ও তিনি অভিনয় করেন। তার অভিনীত বহু ছবির মধ্যে অন্যতম হলো, ‘কলকাতা ৭১’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘দেবী চৌধুরানী’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘লালকুঠি’, ‘তিলোত্তমা’, ‘শ্রীকান্তের উইল’, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘বিষবৃক্ষ’, ‘বিদ্রোহী’, ‘দেবীবরণ’, ‘ছোট বউ’, ‘আক্রোশ’, ‘হীরক জয়ন্তী’, ‘ইন্দ্রজিৎ’, ‘শাখা প্রশাখা’, ‘মায়া মমতা’, ‘সংঘর্ষ’, ‘নাটের গুরু’, ‘মায়ের আঁচল’, ‘রাজু আঙ্কেল’, ‘দাদার আদেশ’, প্রভৃতি।
নিজের এতো বছরের অভিনয় জীবনে তিনি বহু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল, কালাকার পুরস্কার। ২০১২ সালে পান বঙ্গবিভূষণ, এছাড়া পেয়েছেন কলকাতার শেরিফ, ২০১৯ সালে পেয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার – আজীবন সম্মাননা । এত প্রতিভাবান একজন অভিনেতাকে বাঙ্গালী বহু বছর ধরে মনে রেখে যাবেন এবং তার সুস্থতা কামনা করে যাবে।

