বিদেশের ছিল মোটা বেতনের চাকরি! তাও কিসের টানে দেশে ফিরেছিলেন ভিক্টর? জেনে নিন অভিনেতার জীবনের সেই অজানা গল্প

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এমন বহু অভিনেতা অভিনেত্রীরা রয়েছেন যারা একটা সময় দর্শকদের মনে রাজ করতেন কিন্তু বর্তমানে তাদেরকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। বর্ষিয়ান অভিনেতা হওয়ার সাথে সাথে তারা চলচ্চিত্র জগত থেকেও দূরে চলে গেছেন কিন্তু তাদেরকে ভুলতে পারেনি বাঙালি দর্শক। এমনই একজন অভিনেতা হলেন ভিক্টর ব্যানার্জি, যিনি শুধু বাংলা চলচ্চিত্রই নয় এমনকি হলিউড, বলিউড সব জায়গাতেই অভিনয় করেছেন। এবং বহু নামী পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন ভিক্টর ব্যানার্জি।

তার আসল নাম পার্থসারথী বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৪৬ সালের ১৫ ই অক্টোবর তিনি পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। জানা যায় তিনি একজন বাঙ্গালী হিন্দু জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই পরিবার নাকি উত্তরপাড়ার রাজা এবং ছাঞ্ছালের রাজা বাহাদুরের বংশধর। তবে তার লেখাপড়া অর্থাৎ তিনি স্কুল পাশ করেন শিলং থেকে এরপর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ এবং কলকাতা থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। তারপরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্যে স্নাতকত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। কেউ জানা যায় পরবর্তীতে তিনি ডাবলিন এর ট্রিনিটি কলেজ থেকে বৃত্তি লাভ করেছেন। এরপরই তিনি চাকরি পান আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থায়। কিন্তু অভিনয়কে ভালোবেসে সেই বিরাট বেতন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যত ছেড়ে আবার চলে আসেন।

তিনি ছোট থেকেই নাটক করতে ভালোবাসতেন স্কুল-কলেজ সব জায়গাতে সাবলীল ভাবে নাটক করে এসেছেন আর সেই সব বাদ দিয়ে যখন দম বন্ধকর পরিবেশে চাকরি করতে শুরু করলেন তখন মনে মনে ঠিক করলেন যে তিনি এই চাকরি ছেড়ে দেবেন আর যেমন ভাবনা তেমনি কাজ তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দেশে ফিরে এলেন। সেখান থেকে তিনি চলে গেলেন সত্যজিৎ রায়ের কাছে। সেখানে গিয়ে তিনি পরিচালককে জানান যে অভিনয় করতে চান। এর আগে তার নাটকের কথা সত্যজিৎ রায় শুনেছিলেন তাই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে তিনি কি উর্দু ভাষা বলতে পারবেন! অভিনেতার উত্তর ছিল এক কথায় হ্যাঁ তারপরেই তাকে দেখা গিয়েছিল সাত্রুজ কি খিলাড়ি ছবিতে নবাব ওয়াজিদ আলীর এক কর্মচারীর ভূমিকায় সেই চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছিল।
এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি ডেভিড লিনের এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া ছবিতে ডঃ আজিজ আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চরিত্রের জন্য ১৯৮৬ সালে তিনি ব্রিটিশ একাডেমী অব টেলিভিশন এবং ফিল্ম আর্টস পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। এরপর থেকেই তিনি বিশিষ্ট পরিচালক রোমান পোলান্স্কি, জেমস আইভরি, স্যার ডেভিড লিন, জেরি লন্ডন, রোনাল্ড নিয়েম , সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, শ্যাম বেনেগাল এবং রাম গোপাল বর্মা, এদের সঙ্গে কাজ করেন। তিনি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো, ‘আরোহন’, ‘প্রতিদান’, ‘ঘরে-বাইরে’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘প্রতিকার’, ‘একান্ত আপন’, ‘আগুন’, ‘দেবতা’, ‘আক্রোশ’ ,’ব্যবধান’,’লাঠি’ ,’শব্দ’ ,’লাভ এক্সপ্রেস’ প্রভৃতি। বাংলা ছবির পাশাপাশি তিনি কাজ করেছেন হিন্দি এবং অসমীয়া ছবিতেও।

তবে বর্তমানে তাকে আর সেভাবে অভিনয় করতে দেখা যায় না। বহুদিন ধরে তিনি রুপোলি পর্দা থেকে দূরে রয়েছেন। জানা যায় তিনি নাকি এখন তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের এক অখ্যাত পাহাড়ি গ্রামে বসবাস করছেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৩ বছর। তাই দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে তার মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিল কিন্তু পরে জানা যায় যে তিনি ভালো আছেন তিনি সে কথা নিজেই জানিয়ে ছিলেন। তবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একজন এত জনপ্রিয় অভিনেতা যাকে দর্শক আজও সমান পরিমাণে ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছেন তার সুস্থতা এবং দীর্ঘ আয়ু কামনা করছে সকলের।


