ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আগে শেষ ইচ্ছে কী ছিল ঐন্দ্রিলার? দিদি নাম্বার ওয়ানে এসে রচনার সামনে বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন অভিনেত্রীর মা ও দিদি

সন্তান হারানোর কষ্ট যে ঠিক কি রকম সেটা বোঝায় শুধুমাত্র একজন মাই বুঝতে পারে। আর সেটাই উপলব্ধি করেছেন ঐন্দ্রিলার মা। হ্যাঁ ইনি হলেন সেই ঐন্দ্রিলার মা যে ঐন্দ্রিলা কিছুদিন আগেই সবাইকে ফেলে চলে গিয়েছে অনেক দূরে। শেষবার হাসপাতালে ভর্তির আগে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন মাকে। সেই ইচ্ছার কথাই দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে এসে সবার সঙ্গে ভাগ করে নিলেন ঐন্দ্রিলার মা।
সেদিন হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক হয়ে মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে যায় ঐন্দ্রিলার। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও তাঁর পরিবার বা প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এখনও পর্যন্ত। তবে তাঁর মা, শিখা শর্মা জানান সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, কী সমস্যা হয়েছিল অভিনেত্রীর। তিনি বলেন, “বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো, দিওয়ালির আনন্দ হল, কোনও রকম সমস্যা ছিল না আমার বাড়িতে। ওয়েব সিরিজের কাজে ওঁর গোয়া যাওয়ার কথা, সব রেডি… তাঁর আগে সমস্ত বাজার করল, সব্যর (সব্যসাচী) জন্মদিন সেলিব্রেট করল, কোনও রকম শারীরিক সমস্যা ওঁর ছিল না।”
“সেদিন সকালবেলা খাওয়া- দাওয়া করে দুই পোষ্যদের খাওয়ালো, এরপর আমাদের সব বুঝিয়ে বলল কী কী করতে হবে পাঁচ- সাতদিন থাকবে না বলে। আমার পাশে একটু শুয়ে ছিল। হঠাৎ দুপুর ১-১.৩০ নাগাদ আমায় বলল, মা আমার ডান হাত নড়ছে না। আমি ভেবেছি ও ইয়ার্কি করছে। ওঁর হাত তুলে যখন ফেলছি, অসাড় হয়ে গেলে যেমন পড়ে যায়, সেরকম হল। তখনই আমার একটু অন্য রকম লেগেছিল।”
ঐশ্বর্য বলেন, ‘বোন আমাদের পরিবারের রং ছিল। ও চলে যাওয়ায় জীবন সাদাকালো হয়ে গিয়েছে।’ মা কাঁদতে শুরু করলে তাঁকে সামলান ঐশ্বর্য। এগিয়ে আসেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিষয়টি মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে সেই কথাও বলেন তিনি। এরপর চোখের জল মুছে গেম শোতে অংশগ্রহণ করেন তাঁরা।
View this post on Instagram
বহুদিন পর নিজেকে সামলে ও ঐন্দ্রিলার স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেই ফের টেলিভিশনের পর্দায় কামব্যাক করেছেন সব্যসাচী। তবে এখনো পুরোপুরিভাবে এই আঘাতকে মুছে ফেলতে পারেননি অভিনেতা সব্যসাচী। অন্যদিকে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার পরিবারেও একই অবস্থা। ঐন্দ্রিলার মা নিজের মেয়েকে হারানোর সুখ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন আজও।

