‘সবার দাবি রাহুল নিজে গিয়েছিল, রাহুলের উপর এখন সমস্ত দোষ চাপানো হচ্ছে! যে চলে গেছে তাকেই দায়ী করছেন সকলে! প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিনেত্রী রেশমী সেন!

ওড়িশার তালসারি বিচে শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মর্মান্তিক মৃত্যুতে উত্তাল টলিউড। এই ঘটনায় টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধেই উঠেছে ক্ষোভের পাহাড়। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই রাহুল মৃত্যুর বিচার চেয়ে এবং অপমানের প্রতিবাদ জানিয়ে দুটি বড় প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেশমী সেন (Reshmi Sen)। তাঁর এই কড়া সিদ্ধান্ত টলিউডের অন্দরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রাহুলের প্রয়াণের পর থেকেই অভিযোগ উঠছিল যে, প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যে দাবি করা হয়েছিল যে, রাহুল নাকি নিজেই কথা না শুনে জলের গভীরে চলে গিয়েছিলেন। এই ধরণের মন্তব্য ও ‘ব্লেম গেম’ সহ্য করতে না পেরে সরব হয়েছেন রেশমী। তিনি স্পষ্ট জানান যে, রাহুলের মতো একজন সচেতন অভিনেতা কোনোভাবেই শুটিংয়ের নিয়ম ভেঙে এমন ঝুঁকি নিতে পারেন না। বিশেষ করে যেখানে ড্রোন বা জিমি জিপের মতো আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেখানে এককভাবে অভিনেতার ওপর দোষ চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাহুলের সাথে ‘ভোলে বাবা’ সিরিজে অভিনয় করছিলেন। সহকর্মীর প্রতি এমন অবিচার দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অভিনেত্রীর মতে, “যেখানে শিল্পীদের প্রাণের নিরাপত্তা নেই এবং দুর্ঘটনার পর সহমর্মিতার বদলে দোষারোপ করা হয়, সেখানে কাজ করা অসম্ভব।” তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি না দিলেও ব্যক্তিগতভাবে আর্টিস্ট ফোরামের সিনিয়দের নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, একজন শিল্পী হিসেবে এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ জানানোই এখন তাঁর কাছে প্রধান কর্তব্য।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লেখিকা ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও। রেশমী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্যে যেখানে একটি লাইনও এদিক-ওদিক করার সুযোগ থাকে না, সেখানে চিত্রনাট্যের বাইরে গিয়ে রাহুল নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। চিত্রনাট্যের নিখুঁত বাঁধুনিই প্রমাণ করে যে সেটের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিকল্পিত ছিল। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট এড়াতে পারে না। এই যুক্তিকে হাতিয়ার করেই টলিপাড়ার একাংশ এখন সরব।
আরও পড়ুনঃ ‘হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন…’ স্বামীকে হাসপাতাল থেকে আনতে গিয়েই গুরুতর অসুস্থ সুদীপা!
রাহুলের মৃত্যু এবং রেশমী সেনের বা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের মতো শিল্পীদের কড়া অবস্থান টলিউডে এক অভূতপূর্ব কর্মবিরতির আবহ তৈরি করেছে। অভিনেতাদের নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে আর্টিস্ট ফোরাম ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি তুলেছে। অভিনেত্রীর এই পদক্ষেপ কেবল ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, বরং এটি স্টুডিও পাড়ার প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে এক বৃহত্তর লড়াইয়ের সংকেত। সত্যিটা ঠিক কী এবং কার গাফিলতিতে একজন মেধাবী অভিনেতার প্রাণ গেল, তা জানার অপেক্ষায় এখন সারা বাংলা।

