মা এষা ভট্টাচার্য সুস্থ হতেই চরম অঘটন! র’ক্তারক্তি কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য! সকাল সকাল হঠাৎ কী বিপদ ডেকে আনলেন অভিনেত্রী?

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের লড়াইতে সফল অস্ত্রোপচারের পর সম্প্রতি বাড়িতে ফিরেছেন বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্য (Esha Bhattacharya)। বড় ধরনের অস্ত্রোপচার পর চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে মায়ের সম্পূর্ণ পরিচর্যা এবং বাড়ির যাবতীয় কাজের দায়িত্ব এক হাতেই তুলে নিয়েছেন তাঁর মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য (Prarona Bhattacharya)। কিন্তু মায়ের খেয়াল রাখার এই চরম ব্যস্ততার মাঝেই আচমকা নেমে এলো নতুন এক বিপদ, যা দেখে বেশ উদ্বেগে পড়েছে পরিবার ও অনুরাগী মহল।
মায়ের পথ্য তৈরি থেকে শুরু করে চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা-শুশ্রূষা—সবটাই একাই সামলাচ্ছেন প্রেরণা। দিনরাত এক করে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিকভাবেই বেশ ক্লান্ত তিনি। আর এই টানা মানসিক চাপ ও তড়িঘড়ির মধ্যেই ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন। ঘটনার আকস্মিকতায় মুহূর্তের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পরিবারজুড়ে।
সেই বিপদের পরপরই তড়িঘড়ি ছুটে আসতে হয় প্রেরণার বাবাকে। রক্তারক্তি কাণ্ড সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাথে সাথে শুরু হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। তবে বিপদ যে কেবল সাধারণ স্পর্শেই শেষ হয়নি, তা বোঝা যায় যখন বিকেল নাগাদ বাড়িতে জরুরি ভিত্তিতে এক নার্সকে ডেকে পাঠাতে হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে প্রেরণাকে বিশেষ ইনজেকশন দিতে হয়।
আসলে, পুরো অঘটনটি ঘটেছিল রান্নাঘরে কাজ করার সময়। বাড়িতে চিকিৎসাধীন মায়ের জন্য মাছের ঝোল ও সবজি রান্না করছিলেন প্রেরণা। তড়িঘড়ি সবজি কাটাকুটি করার সময় অসাবধানতাবশত তাঁর হাত গভীরভাবে কেটে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যায়। ক্ষত স্থান থেকে রক্ত বন্ধ না হওয়ায় বাবা তড়িঘড়ি সেখানে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেন এবং পরবর্তীতে ইনফেকশনের ঝুঁকি এড়াতে বিকেলে নার্স এসে তাঁকে টিটেনাস ইনজেকশন দিয়ে যান। সম্প্রতি নিজের একটি ফেসবুক ব্লগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন প্রেরণা।
আরও পড়ুনঃ ‘আবার সেই কাজের মেয়ের চরিত্র…’ ‘আমি না করে দিই, শুধু কাজের লোক হিসেবে কেন?’ ‘ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন উনি আমার উপর!’ চরিত্রের পুনরাবৃত্তি এড়াতে ঋতুপর্ণ ঘোষের মুখের উপর ‘না’! কি ঘটেছিল? জানালেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী!
একদিকে অসুস্থ মায়ের দিনরাতের সেবা, অন্যদিকে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব সামলানো এতসব চাপের মধ্যেও প্রেরণার এমন আত্মত্যাগ ও দায়িত্বশীলতা মন ছুঁয়ে গেছে নেটিজেনদের। হাত কাটার প্রাথমিক আঘাত ও যন্ত্রণা ভুলে তিনি আবারও স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন মায়ের খেয়াল রাখতে। শুভানুধ্যায়ীরা একবাক্যে প্রার্থনা করছেন, দ্রুত যেন ভট্টাচার্যের পরিবারের ওপর থেকে সব মেঘ কেটে যায় এবং এষা ভট্টাচার্যের পাশাপাশি প্রেরণাও সুস্থ থাকেন।

