“চোখের সামনে মাকে মার খেতে দেখেছি, মেয়ে বলে দাদু ঠাম্মি কথা বলতো না”, মাকে পাশে নিয়ে সাফল্য পাওয়া নিয়ে অকপট ‘আলোকা’ পিয়ালী

পিয়ালী শাসমল (Piyali Sasmal) টেলিপাড়ার পরিচিত মুখ। মডেলিং দিয়ে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়। এরপর ‘সাঁঝের বাতি’, ‘তিন শক্তির আধার -ত্রিশূল’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘গাঁটছড়া’-তেও ধূসর চরিত্রেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বর্তমানে জি বাংলার একটি অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খেলনা বাড়ি’তে পুলিশ অফিসার আলোকার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে এই জনপ্রিয় মডেল তথা অভিনেত্রীকে। এদিন এক সংবাদ মাধ্যমের সাথে খোলামেলা আড্ডায় বসলেন অভিনেত্রী। আর সেখানেই জীবনের অনেক কঠিন সময় গুলোকে অবলীলায় দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করে নিলেন তিনি।

কেমন জীবনসঙ্গী খোঁজেন তিনি?

কথায় কথায় অভিনেত্রী বলেন তিনি ঝগড়া করতে ভীষণ ভালোবাসেন। তাকে উপর থেকে মিষ্টি দেখতে হলেও মনের দিক থেকে তিনি একদমই মিষ্টি নন। তিনি প্রচন্ড ঝগড়া করতে পছন্দ করেন। সবাই যেমন শান্ত শিষ্ট ঠান্ডা মাথার বর চায় তিনি তেমনটা একেবারেই চান না তিনি সম্পূর্ণ উল্টো। তার মতে তিনি একজন বিজয় সেতু পতির মত বর চান। এমনকি শুটিং ফ্লোরেও ভীষণ ঝগড়া করেন অভিনেত্রী। মজা করে নিজেই দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিবেন তার ভালোলাগা খারাপ লাগা গুলোকে।

অভিনয় জগতে আসা হলো কিভাবে? অভিনেত্রী জানান, “আমি মেদনিপুরের মেয়ে কিন্তু নর্থ বেঙ্গলে থাকতাম আমার পড়াশোনা সেখানেই। বড় হওয়ার পর কলেজটা আমি কলকাতা থেকেই করতে চেয়েছিলাম। তাই বাগুইআটিতে এক পিসির বাড়িতে এসে উঠি আমি আর আমার মা। কিন্তু বাড়িতে একাধিক ঝামেলা হয় তারা বলেন মেয়ের বিয়ে না দিয়ে এরকম ঘুরে ঘুরে কলেজে এডমিশন আবার কিসের? এবং তারা তাদের ফ্ল্যাটে আর আমাদের রাখতে চান না। রাত বারোটার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। সেদিন একটা রুম বুক করে আমি আর আমার মা ছিলাম। এরপর ধীরে ধীরে মডেলিং এবং সেখান থেকেই অভিনয় প্রবেশ করা।”

ছোটবেলা কেমন কেটেছে অভিনেত্রীর? পিয়ালী বললেন, “আমার জন্ম জন্মাষ্টমীর দিন। সবাই ভেবেছিল ছেলে হবে। ঘরে গোপাল আসবে। কিন্তু তেমনটা হলো না হলাম আমি। আমি কখনো দাদু ঠাম্মার ভালোবাসা পায়নি। আমি হওয়ার পর থেকে দাদু ঠাম্মা আমার মায়ের সাথে কথা বলেনি অনেক দিন। এমনকি আমার সঙ্গেও কখনো কথা বলেনি। ছোটবেলায় আমার মাকে প্রচুর টর্চার করেছে আমার বাড়ির লোকজন।

আমি অনেক বড় বয়স অবধি আমার মাকে মার খেতে দেখেছি। বাবা সব সময় সাপোর্ট করেনি কিন্তু মা সবসময় আমার পাশে ছিল। মা সবসময় চাইতো আমি সব দিকে থাকি গান বাজনা পড়াশোনা সব দিকে আর আমি পড়াশোনায় ভীষণ ভালো। কিন্তু দাদু ঠাম্মা এরকম কোনটাই চাননি। মাকে যখন টর্চার করা হতো অনেক সময় প্রতিবাদ করেছে কিন্তু অনেক সময় আবার করতে পারেনি। সেই দিনগুলোর জন্য খুব আফসোস হয় যে কেন সেই সময়ে প্রতিবাদ করতে পারিনি।”

Back to top button