‘দিদির বিপদে এরা পাল্টি খাবে জানতাম!’ ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হতো ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে!’ ‘বাড়িতে ১২ বছরের ছেলে, কাজ না থাকলে চিন্তা তো হয়ই…’ কাদের পাল্টিবাজ বলে দাগিয়ে দিলেন অভিনেত্রী? টলিউডে রাজনীতি নিয়ে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী ময়না ব্যানার্জী!

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood) অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ ময়না ব্যানার্জী (Moyna Banerjee)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও তিনি বেশ সক্রিয় এবং স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সমীকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর এই খোলামেলা সাক্ষাৎকারটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে।
ভিডিওটিতে ময়না ব্যানার্জী টলিউডের একাংশের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে তাঁকে এবং তাঁর স্বামী অর্ণবকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দিয়ে রাখা হতো। তিনি বলেন, টিভির পর্দায় যাদের দিদির পাশে দাঁড়িয়ে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে দেখা যেত, তাদের অনেককেই তিনি বিশ্বাস করতে পারতেন না। ময়নার দাবি, দলের কঠিন সময়ে এই সুযোগসন্ধানী সহকর্মীরা যে একদিন ঠিকই পাল্টি খাবে এবং দলবদল করবে, তা তিনি আগে থেকেই জানতেন।
কেরিয়ার এবং সংসার চালানো নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, অভিনয়ই তাঁর একমাত্র পেশা হওয়ায় কাজের অভাব হলে একটা চিন্তা থেকেই যায়। তাঁর ১২ বছরের একটি সন্তান রয়েছে, যার পড়াশোনা ও খেলাধুলার খরচসহ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁদের টানতে হয়। তবে কেরিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও বর্তমান সরকারের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী দিনে কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ানকে কাজ ছাড়া বসে থাকতে হবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি-সক্রিয়তা নিয়েও মুখ খুলেছেন ময়না। তিনি জানান, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ইডি, সিবিআই বা ঘন ঘন এফআইআর-এর এমন কালচার কখনো দেখেনি। রাজনীতিতে এই ধরণের নোংরামি বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় উপেক্ষা করে দিদির পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মনের জোর থাকলে কোনো ভয় কাজ করে না। একই সাথে তিনি দলমত নির্বিশেষে একটি সুস্থ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আরজি জানান।
আরও পড়ুনঃ পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী! দুর্নীতি ও আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে পুলিশি হেফাজতে গায়িকা অদিতি মুন্সির স্বামী! জোর কদমে চলছে তদন্ত!
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন মাতৃসুলভ ও দয়ালু নেত্রী হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দিদি অনেককেই সহজে ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু তার প্রতিদানে কিছু মানুষ তাঁর পিঠে ছুরি মেরেছে। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অভিষেকের নামে বাজারে একটি ভুল ও অহংকারী ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। প্রকৃতপক্ষে অভিষেক অত্যন্ত ভালো মানুষ চেনেন এবং তাঁর দেওয়া বিশ্বাসের মর্যাদা অনেকেই রাখতে পারেননি।

