‘স্বামীকে সন্তানসুখ দিতে পারিনি, মা হতে না পারায় আমাদের দুজনের মধ্যে…’- অধরা রয়ে গেছে মাতৃত্ব! সাক্ষাৎকারে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার!

৯০ দশকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ইন্দ্রানী হালদার (Indrani Halder)। একের পর এক বাংলা ছবিতে অভিনয় করে সকলের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী। সকলের ভালোবাসায় পেয়েছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তবে বিপুল জনপ্রিয়তা এবং কর্মজীবনে ব্যাপক সাফল্য থাকার পরেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিল অনেক না পাওয়া। সেই না পাওয়া গুলোর কথাই একসময় একটি জনপ্রিয় টকশোতে এসে মন খুলে জানিয়ে ছিলেন অভিনেত্রী। জানিয়েছিলেন তার সেই সমস্ত আক্ষেপের কথা।
শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের টক শো ‘অপুর সংসার’-এ এসে তিনি মা না হতে পারার যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলেছিলেন। ‘শ্রীময়ী’ অভিনেত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, তাঁর জীবনের একটাই আফশোস, তিনি স্বামীকে সন্তানসুখ দিতে পারেননি।

শাশ্বত যখন ইন্দ্রাণীকে ‘বউ হিসেবে’ নিজেকে নম্বর দিতে বলেন, তখন ইন্দ্রাণী নিজেকে দেন ‘শূন্য’। এর কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি বাজে বউ একদম। বরকে রান্না করে ভাত বেড়ে দেই না। বর কলকাতার বাইরে থাকে, এখানে এলে আমি বলতে থাকি, এই আমি ভাত রেখে গেলাম, খেয়ে নিও। আমার দেরি হচ্ছে, আমি গেলাম গেলাম… আসলে আমি যৌথ পরিবারের মেয়ে, ওই ইচ্ছেটা তো আছে। কিন্তু শ্যুটিংয়ের চাপে করে উঠতে পারি না।’
শুধু কি এটাই কারণ? জবাবে ইন্দ্রাণী মনে জমে থাকা কষ্ট তুলে ধরেন তাঁর ‘অপুদা’র কাছে। বলেন, ‘আরেকটা জিনিস যেটা আমি করতে পারিনি। যেটা বলতে আমার কোনো আপত্তি নেই। এখনও ভাবলে আফশোস হয়। কেরিয়ার, কাজ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, সন্তানের জন্ম দেওয়া হয়নি আমার। সেটা আমাদের দুজনের মধ্যেই একটা আফশোস।’
আরও পড়ুনঃ গুন্ডাদের কব্জায় স্বয়ম্ভু! বাবাকে রক্ষা করতে রণচন্ডি রূপে দুর্গা! ফাঁ’স আজকের দুর্ধর্ষ পর্ব
‘ভাস্কর মাঝেমাঝেই বলে, শুধু সংসারের জন্য দায়িত্বই পালন করে গেলে… একটা সময় আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হল না। তারপর আমরা হাল ছেড়ে দিলাম। তোমারও ৪০-এর বেশি বয়স, আমারও। আর দরকার নেই থাক। আমি একটা দত্তক নিতে চেয়েছিলাম, ভাস্কর রাজি হয়নি। আমার মনে হয়, স্ত্রী হিসেবে আমি ভাস্করকে বাবা হওয়ার সুখটা দিতে পারতাম, কিন্তু সেই ব্যাপার আমি অক্ষম। সন্তানের জন্ম না দেওয়ায়, আমাদের দুজনের মধ্যে কিন্তু কোনো সমস্যা ছিল না। আমরা একদম ঠিক আছি। তবে এটা যেমন সত্যি, তেমন ওটাও সত্যি।’

