‘যখন যেমন সময়, তখন তেমন সাজ!’ ‘ইন্ডাস্ট্রির লোক কাজ না দিলে পাহাড়ে চলে যাবো,’ পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়াই আসল! জীবনের সোনালী ও কঠিন দিনগুলো নিয়ে মুখ খুললেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী!

টলিউড (Tollywood) জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় এক মুখ হলেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী (Bidipta Chakraborty)। থিয়েটার থেকে শুরু করে সিনেমা কিংবা ছোটপর্দার ধারাবাহিক সব জায়গাতেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং সুন্দর ব্যক্তিত্বের জন্যও দর্শকেরা তাঁকে দারুণ পছন্দ করেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি সাক্ষাৎকার বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে জীবনের এক বড় সত্য এবং নিজের জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই অভিনেত্রী।
ভিডিওটিতে বিদীপ্তা তাঁর ছোটবেলার এক দারুণ শিক্ষার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা তাঁকে একটি বিশেষ শিক্ষা দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার পাঠ তিনি বাবার কাছ থেকেই পেয়েছেন। অভিনেত্রীর মতে, সময় সবসময় একরকম যায় না, আর তাই যখন যেমন পরিস্থিতি আসবে, নিজেকে সেই অনুযায়ী চালিয়ে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিজের কেরিয়ারের সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করে বিদীপ্তা বলেন, একটা সময় ছিল যখন তিনি দিনে চার-চারটি শিফটে কাজ করেছেন। সেই সময় স্বাভাবিকভাবেই দু-হাতে প্রচুর উপার্জনও করেছেন। আর সেই ভালো আর্থিক সচ্ছলতার দিনগুলিতে তিনি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি পরেছেন, দামি পারফিউম বা আতর মেখেছেন। এমনকি উপার্জনের টাকা দিয়ে মনের সুখে ইউরোপের মতো সুন্দর জায়গায় বেড়াতেও গেছেন।
তবে জীবনের চাকা যে সবসময় একদিকে ঘোরে না, সেটাও অভিনেত্রী খুব ভালো করেই জানেন। তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি কখনো হাতে পর্যাপ্ত কাজ না থাকে এবং জমানো টাকায় দিন চালাতে হয়, তা নিয়েও তাঁর মনে কোনো আক্ষেপ নেই। সেরকম পরিস্থিতি এলে তিনি অনায়াসে দামি পারফিউম ছেড়ে সাধারণ উপায়ে থাকবেন এবং বিলাসিতা ভুলে ডাল-ভাত খেয়েই হাসিমুখে দিন কাটিয়ে দেবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘মুখ ফুটে কখনো বলেননি প্রাউড…’ ‘উপার্জনের সব টাকা তুলে দিতাম বাবার হাতে!’ ভাড়াবাড়িতে কেটেছে জীবন, ছেলের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন বুকে নিয়েই চলে যান বাবা! আবেগপ্রবণ যীশু সেনগুপ্ত!
সবশেষে ভ্রমণের প্রসঙ্গ টেনে বিদীপ্তা চক্রবর্তী তাঁর ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, কোনো কারণে যদি ইন্ডাস্ট্রির মানুষ তাঁর ওপর রাগ করে তাঁকে কাজ না-ও দেয়, তাও তিনি মন খারাপ করবেন না। টাকা কম থাকলে ইউরোপ না গিয়ে তিনি সোজা পাহাড়ে চলে যাবেন। কারণ আমাদের পশ্চিমবঙ্গেই এত সুন্দর সুন্দর পাহাড় রয়েছে যে, সেখানে গেলেই মন ভালো হয়ে যেতে বাধ্য। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার এই সহজ বার্তাটিই এখন নেটপাড়ায় সবার মন জয় করছে।

