‘রাহুলের মতন আমার প্রাণটাও চলে যেতে পারত…’, ‘টেলিকাস্টের চাপে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি…’ শুটিং সেটের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা সুমন ব্যানার্জি!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মর্মান্তিক মৃত্যুতে বর্তমানে উত্তাল বাংলা বিনোদন জগত। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেবল একজন প্রতিভাবান অভিনেতাকে কেড়ে নেয়নি, বরং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে লুকিয়ে থাকা চরম অব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার অভাবকেও প্রকাশ্যে এনেছে। অভিনেতার মৃত্যুর পর থেকেই সহকর্মীরা শুটিং সেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে সরব হয়েছেন টলিউডের পরিচিত মুখ সুমন ব্যানার্জীও। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আউটডোর শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অভিনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই ক্যামেরা চালু করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।
শুটিং সেটের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সুমন ব্যানার্জী নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন যে, প্রায়ই দায়সারাভাবে অনুমতি নিয়ে শুটিং শুরু করা হয়। তিনি বলেন, ‘মাঝে একজন কো-অর্ডিনেটর থাকেন লোকাল, যিনি পুরো ব্যাপারটা আয়োজন করেন। অনেক সময় তারা বলেন যে, ‘হ্যাঁ করুন না, শুটিং হবে, বলা আছে’। থানায় বলা আছে, অমুক জায়গায় বলা আছে এইভাবেই শুটিংটা হয়, এটা নতুন কিছু না।’ কিন্তু এই মৌখিক আশ্বাসে যে কোনো আইনি বা সুরক্ষামূলক ভিত্তি থাকে না, রাহুলের মৃত্যু যেন সেটিই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। পারমিশন থাকলেই যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, তা আজ বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিনয় জীবনের অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে সুমন আরও যোগ করেন,“আজ এখানে দাঁড়িয়ে একজন অভিনেতা হিসেবে যখন পেছন দিকে তাকাই, স্পেশালি রাহুলের এই ঘটনাটার পর মনে হয় যে জীবনে সত্যি কতবার আমার মনে হচ্ছিল আমার একার না, যে কোনো অভিনেতারই মনে হয় কতবার এরকম সিচুয়েশন হয়েছে যেখানে আমার প্রাণটাও হয়তো চলে যেতে পারে।” শুটিংয়ের সময় প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, যেখানে সামান্য অসাবধানতা বা যান্ত্রিক ত্রুটি ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়। অভিনেতা মনে করেন, এই মৃত্যু ভয় সঙ্গে নিয়েই বছরের পর বছর কাজ করে চলেছেন শিল্পীরা।
নিরাপত্তা ও নিয়মের ফাঁকফোকর নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কেবল কাগজের অনুমতিই শেষ কথা নয়। তার ভাষায়, “পারমিশন তো প্রাণ বাঁচাতে পারে না। আমি পারমিশন নিলাম সমুদ্রে শুট করব, সেই পারমিশনে নিশ্চয়ই লেখা থাকে না যে আমি কত ফুট গভীরে শুট করব। সেক্ষে ত্রে সেফটি সিকিউরিটির বিষয়টা পারমিশনের দিকে যাওয়ার চেয়ে বেশি জরুরি।” শুটিং স্পটে লাইফ গার্ড, প্যারামেডিক্যাল টিম বা জরুরি উদ্ধারকারী সরঞ্জাম না থাকাটা যে কত বড় গাফিলতি, সুমন ব্যানার্জীর এই বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘মৃ’ত্যুর পর নিজের সম্মান বাঁচাতে কাউকে যেন এভাবে…’ কোনভাবেই মানতে পারেননি স্বামী রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণ! একটু সামলে উঠতেই মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা সরকার!
প্রোডাকশন হাউসের তাড়াহুড়ো এবং কাজ শেষ করার মানসিকতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তার মতে, টেলিকাস্টের সিন তোলার চাপে অনেক সময় সুরক্ষার তোয়াক্কা করা হয় না। সুমন ব্যানার্জী বলেন,“এক্সিকিউটিভদের গাফিলতি যদি হয়ে থাকে, তবে সেটা ‘পাপ’। আলো পড়ে যাওয়া বা শিডিউল শেষ হওয়ার ভয়ে ঝুঁকি নেওয়াটা কাম্য নয়।” বর্তমানে আর্টিস্ট ফোরাম এবং টেকনিশিয়ানদের প্রতিবাদে টলিউডে যে কর্মবিরতি চলছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘রাহুল’-কে তার কাজের জায়গায় প্রাণ হারাতে না হয়।

