সকলের সামনে চুলের মুঠি ধরে বলেছে “চুরি করিস নাকি তুই!” ঘরভর্তি মানুষের সামনেই শঙ্কর চক্রবর্তীর চরম অপমান! প্রত্যুত্তরে কি করেছিলেন অভিনেতা?

টেলিভিশনের পর্দার (Bengali Television) জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন বিখ্যাত হলেন শঙ্কর চক্রবর্তী (Shankar Chakraborty)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয় জগতে দাপিয়ে কাজ করছেন অভিনেতা। তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য ধারাবাহিক এবং সিনেমা। নিজের অভিনয় জীবনে একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নেতি, ইতিবাচক দুই ধরনের চরিত্রেই নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন বারবার।

তবে একটা সময় অভিনেতাকে এই জায়গায় আসতে গিয়ে পেরোতে হয়েছে একাধিক বাধা-বিপত্তি। পেরোতে হয়েছে ভয়ংকর দিনগুলো। অভিনেতার শৈশবটা অনেকটাই লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। খুব ছোট বয়সেই বাবাকে হারিয়েছেন অভিনেতা। বাবাকে হারানোর পর গোটা সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সকালে স্কুল যেতেন এবং রাত্রে কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু তারপরেও পেতে হয়েছে চোর অপবাদ।

সেই সব দিনের কথা মনে পড়লে আজও চোখে জল চলে আসে। কিন্তু অভিনেতাকে কেন চোর অপবাদ দেওয়া হয়েছিল জানেন? কি ছিল অভিনেতার অপরাধ? কঠিন পরিস্থিতির সময় প্রেমিকা সোনালী চক্রবর্তী পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন শঙ্করের দিকে। সোনালী তার জীবনে বড় বদল নিয়ে এসেছিল। খুব অল্প বয়সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করেন অভিনেতা। তবে স্ত্রী না থাকলে আজ এই জায়গাতে পৌঁছতে পারতেন না তিনি সে কথা সবসময় স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুনঃ শোলাঙ্কির ভক্তদের জন্য বিরাট সুখবর! খুব শীঘ্রই প্রধান চ্যানেলের হাত ধরে ছোট পর্দায় ফিরছেন অভিনেত্রী শোলাঙ্কি!

অভিনেত্রীর স্ত্রী ছিলেন তখন গানের দিদিমণি। ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের গান শেখাতেন। আর গান শিখিয়ে যেটুকু যা উপার্জন করতেন সবটাই তুলে দিতেন শঙ্করের হাতে। সোনালি ছিলেন ধনী পরিবারের এক মেয়ে। বস্তিতে থাকা দরিদ্র শঙ্করের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তার পরিবারের লোকজন। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে অভিনেতার হাত ধরেছিলেন। কিন্তু ছোটবেলায় একবার স্কুলে পড়াকালীন চোর অপবাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে। যেহেতু রাত্রের বেলা কারখানায় কাজ করতেন তাই ঘুম হতো না ঠিকঠাক। সকালবেলা স্কুলে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ক্লাসের মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়তেন। তখন স্কুলের শিক্ষক চুলের মুঠি ধরে বলতেন, “চুরি করিস নাকি তুই, যে পড়ে-পড়ে ঘুমাচ্ছিস…”। সেই সব দিন আজও মনে পড়ে অভিনেতার।

Back to top button