৪৫ বছরের দূরত্ব! দুই স্ত্রীর অদেখা সম্পর্ক! ধর্মেন্দ্রর ভিটেতে প্রবেশ নিষেধ হেমার!

বলিউডের প্রেমকাহিনিতে অনেক রঙিন অধ্যায় আছে, কিন্তু হেমা মালিনী আর ধর্মেন্দ্রের সম্পর্ক সেই তালিকায় আলাদা জায়গা পায়। ১৯৭০ সালে ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ ছবির সেটে প্রথম দেখা, তারপর একসঙ্গে ছবির পর ছবি। পর্দার রসায়ন ধীরে ধীরে বাস্তবে প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু সেই ভালোবাসার পথ আদৌ সহজ ছিল না। কারণ তখন ধর্মেন্দ্র ছিলেন সংসারী মানুষ, চার সন্তানের বাবা। পরিবার, সমাজ এমনকি বলিউডের অনেকেই মেনে নেননি এই সম্পর্ক।

হেমাকে ভালোবাসতেন আরও দুজন বড় অভিনেতা — জিতেন্দ্র এবং সঞ্জীব কুমার। এমনকি জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়েও প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবুও হেমার মন কেবল ধর্মেন্দ্রতেই আটকে। বাবার আপত্তি আর সমাজের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে অবশেষে ১৯৮০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের একটা তীব্র মূল্য দিতে হয়েছিল। ধর্মেন্দ্র কখনও প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে ডিভোর্স দেননি। ফলে দুটো পরিবার আলাদা পথে চলেছে বছরের পর বছর।

অবাক করার মতো সত্যি হলো, গত ৪৫ বছরে কোনওদিন দু’জন স্ত্রী মুখোমুখি হননি। ধর্মেন্দ্রর পৈতৃক বাড়িতে কখনও ঢোকেননি হেমা মালিনী। এমনকি তাঁর পরিবারের কাউকেও সেই বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি নেই। শুধু একবার, ২০১৫ সালে, সানি দেওলের উদ্যোগে এশা দেওল সেই বাড়িতে যান অসুস্থ কাকা অজিত দেওলকে দেখতে।

প্রকাশ কৌর কখনও হেমার প্রতি ঘৃণা পোষণ করেননি। বরং বহু বছর পর তিনি বলেন, “হেমাও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাকে সম্পর্কটা বাঁচাতে হয়েছে। কিন্তু আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, এমনটি করতাম না।”

আরও পড়ুনঃ বহুদিন ছোট পর্দা থেকে গায়েব! মুম্বাইতে দিচ্ছেন অডিশন! কেন আর ছোটপর্দায় ফিরতে চান না দেবযানী চট্টোপাধ্যায়?

অন্যদিকে হেমারও মনের কোণে রয়ে গেছে একটা না-পাওয়া আফসোস। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “প্রতিটি নারীই স্বামী আর সন্তান নিয়ে একটি স্বাভাবিক জীবন চায়। কিন্তু সবসময় জীবন পরিকল্পনা মতো চলে না। মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতেই হয়।” আজ ধর্মেন্দ্র নেই। কিন্তু তার রেখে যাওয়া দুটি পরিবার, দুটি পথ আর দুটি ভালোবাসা — এখনও বলিউডের সবচেয়ে অজানা এবং জটিল অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।

Back to top button