‘আমি একটা হতদরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, বিদেশে আমায়…’ বিদেশের বৈভব দেখে ঘুম উড়ে যায় অভিনেতার! প্রথম বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপটে চন্দন সেন!

চন্দন সেন (Chandan Sen) বাংলা সাংস্কৃতিক জগতের এক অনন্য নাম। ১৯৭৭ সালে থিয়েটারের মঞ্চ থেকে যাঁর অভিনয়ের হাতেখড়ি, তিনি আজ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পর্দায় সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রখ্যাত নাট্যকার উৎপল দত্ত এবং রামপ্রসাদ বণিকের ছাত্র হিসেবে তিনি তাঁর কেরিয়ারের ভিত গড়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি ‘নাট্য আনান’ থিয়েটার গ্রুপে সৃজনশীল পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন। দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্মজীবনে তিনি মঞ্চে যেমন দাপিয়ে অভিনয় করেছেন, তেমনই ‘বাড়িওয়ালি’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিনেমা ‘মানিকবাবুর মেঘ’-এ তাঁর কাজ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

বর্তমানে চন্দন সেন তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি সংগঠনের কাজেও সমান সক্রিয়। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, তিনি পশ্চিমবঙ্গ আর্টিস্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সংগঠনের কাজকে আরও গতিশীল করে তুলেছে। অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সহকর্মীদের সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর রাখা এবং ইন্ডাস্ট্রির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁর এই সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি সিলেক্টিভ ভালো চিত্রনাট্য ও শক্তিশালী চরিত্রের খোঁজে থাকেন সবসময়। দীর্ঘ সময় মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে জয়ী হওয়া এই অভিনেতা আজও সমান উদ্যমে কাজ করে চলেছেন। মঞ্চনাটক পরিচালনা এবং ভালো মানের সিনেমায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি বাংলা সংস্কৃতির অনুরাগী দর্শকদের জন্য সবসময়ই এক বড় প্রাপ্তি। তবে সম্প্রতি নিজের জীবনের এক

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন অভিনেতা। সেখানেই নিজের জীবনের প্রথম বিদেশ যাওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে যখন তিনি প্রথমবার বিদেশের মাটিতে পা রাখেন, সেই সময়ের অনুভূতি শেয়ার করে তিনি বলেন, “আমি প্রথমবার সুযোগ পাই ৯৭ সালে বিদেশ যাওয়ার। ব্রাসেলস এয়ারপোর্ট হচ্ছে আমার প্রথম নামার জায়গা। প্রথমবার বিদেশ যাচ্ছি, ঘুমটুম সব উড়ে গেছে। একটা প্রায় দরিদ্র, নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলের সামনে ওই পরিমাণ বৈভব এবং নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।” চার ঘণ্টা ধরে এয়ারপোর্টে ঘুরে দেখার সেই স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন।

আরও পড়ুনঃ ‘মানুষকে চিনতে হলে কাছে আসতে হবে…বিয়ের আগে লিভ-ইন অত্যন্ত জরুরী!’ কাছে এসে চিনতে হয়, না চিনে বিয়ে করা উচিত নয়! কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পিঙ্কি বন্দোপাধ্যায়!

ব্যক্তিগত জীবনে চন্দন সেন এক অদম্য যোদ্ধা। মারণরোগ ক্যান্সারের সাথে তাঁর লড়াই এবং ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে আসার গল্প আজও অনেককে অনুপ্রাণিত করে। ৩৮ বার কেমোথেরাপি নেওয়ার ধকল সহ্য করেও তিনি তাঁর অভিনয় ও শিল্পের সাধনা থামিয়ে রাখেননি। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ আর্টিস্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন।

Back to top button