‘কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় তাড়া করত সবসময়!’ ‘ভাগ্যিস কোনো ভূষণ টুষণ পাইনি!’ ‘পাবলিকই আসল পাল্টিবাজ!’ ‘মঞ্চে গিয়ে গরু-ছাগলের মতো বসে থাকা…’ ট্রোলিং নিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ! কি বললেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়?

টলিগঞ্জের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেতা তথা সাহিত্যিক ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের (Bhaswar Chatterjee) সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতা গত কয়েক বছর ধরে কাশ্মীর বিষয়ক চর্চা এবং লেখালেখির জগতেও বেশ নাম কুড়িয়েছেন। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চাদর গায়ে না জড়িয়েও নিজের স্পষ্ট ও নিরপেক্ষ মতামতের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

গত ১৫ বছর ধরে টলিগঞ্জ তথা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের গুমোট ও ভয়ের পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে কেউ মন খুলে কথা বলতে পারতেন না। অরূপ বিশ্বাস বা স্বরূপ বিশ্বাসের মতো ক্ষমতাশালীদের খুশি করতে না পারলে কাজ চলে যাওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন ভয় সবসময় তাড়া করে বেড়াত শিল্পী ও কলাকুশলীদের। নিজের কাজ বাঁচানোর তাগিদে অনেক শিল্পীই ভেতরে ভেতরে চরম বিরক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবাদ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক মঞ্চে তারকাদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে ভাস্বর জানান, গত ১৫ বছরের মধ্যে তিনি মাত্র একবারই এমন কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে বারবার ফোন আসায় ক্যারিয়ারের খাতিরে সেবার তিনি যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো ছাদ বা ন্যূনতম পরিকাঠামো না থাকায় চড়া রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে ‘গরু-ছাগলের মতো’ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল তাঁদের। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী বড় বড় এজেন্ডা কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় নিয়মিত সেখানে যেতেন, তবে ভাস্বরের নিজের এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন পুরস্কার, সম্মান বা বঙ্গভূষণের মতো আয়োজন নিয়ে অভিনেতা স্পষ্ট জানান, তিনি কখনো এসবের পেছনে ছোটেননি। তাঁর কাছে রেড রোডের ২৬শে জানুয়ারি, ১৫ই আগস্ট কিংবা বঙ্গভূষণ প্রদান অনুষ্ঠানের কার্ড আসলেও তিনি কখনো সেসব অনুষ্ঠানে যাননি। তিনি ফোন করে কখনো সরকারের কাছে কোনো পুরস্কার বা ‘শ্রী’ উপাধির দাবি জানাননি, আর সরকারও তাঁকে তা দেয়নি। ভাস্বর রসিকতা করে বলেন, তিনি কোনো পুরস্কার পাননি বলেই আজ সাধারণ মানুষের ট্রোলিং বা কটাক্ষের শিকার হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমাকে যীশু আর কাঞ্চন রীতিমতো ভয় পেত…’ ‘সবার প্রথম ওরাই আমার শিকার হত!’ ভোর পাঁচটায় উঠে আমি ওদের…!’ ভোর হতেই দুই অভিনেতার ওপর চলতেন চরম অত্যাচার? ঠিক কি করতেন অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি?

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের করা আলোচিত মন্তব্য “পাবলিকই আসল পাল্টিবাজ” এর সপক্ষেও জোরালো যুক্তি দিয়েছেন অভিনেতা। ভাস্বরের মতে, শিল্পীরা রাজনৈতিক দলবদল করলেই সমাজ যেভাবে তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, সেটা একেবারেই দ্বিচারিতা। কারণ সাধারণ মানুষ বা পাবলিকই তো আসল পাল্টিবাজ দলবদল যদি অপরাধ হয়, তবে ভোটাররাই তো আগে বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূল এবং পরবর্তীতে তৃণমূল থেকে বিজেপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। শিল্পীরা তো এই সমাজের ও সাধারণ জনগণেরই একটা অংশ, তাই একা তাঁদের ওপর দোষ চাপানো অনুচিত।

Back to top button