‘আমার বয়স ও যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাই না’ পিআর পারসন নন বলে কাজ কম, মানতে নারাজ অনিন্দ্য সেনগুপ্ত! সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডের চাপেই কি এই পরিণতি? মুখ খুললেন অভিনেতা!

বর্তমান প্রজন্মের প্রতিভাবান অভিনেতা অনিন্দ্য সেনগুপ্ত (Anindya Sengupta) খুব অল্প সময়েই বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘X=Prem’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি দিয়েছিল। একজন শিক্ষিত এবং মার্জিত অভিনেতা হিসেবে পরিচিত অনিন্দ্য শুরু থেকেই বেছে কাজ করতে পছন্দ করেন। পেশাদার সাংবাদিকতা এবং মিডিয়া ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসায় তাঁর কথাবার্তায় যেমন গভীরতা থাকে, তেমনই থাকে স্পষ্টবাদিতা। ১৫ বছরের দীর্ঘ মিডিয়া ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে তিনি এখন অভিনয়ের জগতে নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরছেন।

সম্প্রতি এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে অনিন্দ্য তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘বিবি পায়রা’ এবং সেখানে তাঁর চরিত্র ‘দেবু’ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। এই ছবিতে অনিন্দ্যকে দেখা যাবে একজন ঘরজামাইয়ের চরিত্রে, যার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। অভিনেতা জানিয়েছেন, দেবু চরিত্রটি পরিস্থিতির চাপে একপ্রকার পিষ্ট। তিনি রসিকতা করে বলেন যে, চরিত্রটি এতটাই করুণ যে দর্শকদের দেখে মনে হতে পারে—‘আহারে বেচারা!’ পুরুষতন্ত্রের মানসিক চাপ এবং পারিবারিক দায়িত্বের মাঝে দেবু কীভাবে নিজেকে সামলায়, সেটিই সিনেমার অন্যতম উপজীব্য। অনিন্দ্য মনে করেন, এই ধরনের ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করা একজন অভিনেতার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।

ছবিতে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন টলিউডের দুই প্রভাবশালী অভিনেত্রী পাউলি দাম এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অনিন্দ্য বলেন যে, ফ্লোরে যাওয়ার আগে তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন। সিনিয়র প্রফেশনাল হিসেবে তাঁদের কাজের প্রতি যে অদম্য ‘খিদে’ এবং একাগ্রতা, তা অনিন্দ্যর কাছে বড় একটি শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, পাউলি এবং স্বস্তিকার মতো অভিনেত্রীরা যেভাবে বছরের পর বছর নিজেদের মান বজায় রেখেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। বড় স্টারের সাথে অভিনয় করার সময় সচেতনভাবে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করা যে কতটা জরুরি, তাও তিনি উল্লেখ করেন।

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনিন্দ্যর বক্তব্য ছিল বেশ সাহসী ও বিশ্লেষণধর্মী। তিনি সরাসরি বলেন যে, বাংলা সিনেমার রেভিনিউ সিস্টেম যদি আরও শক্তিশালী হতো, তবে অভিনেতাদের কাজের অনিশ্চয়তা বা ইনসিকিউরিটি অনেক কম থাকত। নতুন প্রজন্মের ‘হিরো’ তৈরি না হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো সিস্টেমের একটি সমস্যা। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার ওপর যখন বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করা হয়, তখন সেই রিটার্ন দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হতে সময় লাগে। সিস্টেমটি যতক্ষণ না পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ এই সংকট কাটানো কঠিন।

আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ের থেকে দূরে থাকাই ভালো, বিতৃষ্ণা এসে গেছে…’ ‘পর্ণা’ থেকে ‘রূপমঞ্জুরী’, পর্দায় আদর্শ স্ত্রী কিন্তু বাস্তবে বিয়ে থেকে দশ হাত দূরে অভিনেত্রী! কেন বাস্তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে অনীহা পল্লবী শর্মার?

পরিশেষে সিনেমার গান এবং প্রচার নিয়ে অনিন্দ্য তাঁর নিজস্ব ভাবনার কথা জানান। ছবির টাইটেল ট্র্যাক ‘বিবি পায়রা’ ইতিমধ্যেই চারদিকে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পী রাও-এর গাওয়া এই ক্যাচি গানটি অনিন্দ্যর নিজেরও অত্যন্ত প্রিয়। মজার বিষয় হলো, অনিন্দ্য নিজেকে একজন তথাকথিত ‘পিআর পারসন’ মনে করেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অহেতুক সব বিষয়ে মতামত দেওয়ার চেয়ে তিনি নিজের কাজে মনোযোগ দিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। আগামী ১০ এপ্রিল মুক্তি পেতে চলা অর্জুন দত্তের এই সিনেমাটি সাধারণ মানুষকে কয়েক ঘণ্টার জন্য অন্য এক জগতে নিয়ে যাবে এবং নির্মল বিনোদন দেবে বলেই অনিন্দ্যর বিশ্বাস।

Back to top button