কারও হঠাৎ মৃ’ত্যু! কেউ লড়ছেন মা’রণ রোগের সঙ্গে! ২০২৫-এ ছেড়ে গেলেন কারা? বছর শেষে ফিরে দেখা!

প্রতি বছর যেমন নতুন মুখ, নতুন স্বপ্ন নিয়ে তারকাদের আগমন ঘটে, তেমনই কিছু বিদায় আমাদের মনে গভীর শূন্যতা রেখে যায়। ২০২৫ সালও তার ব্যতিক্রম নয়। কখনও আকস্মিক দুর্ঘটনা, কখনও দীর্ঘদিনের অসুখ, আবার কখনও নিঃসঙ্গতার সঙ্গে লড়াই— এই বছর বলিউড ও টলিউড হারিয়েছে একাধিক পরিচিত মুখকে। তাঁদের চলে যাওয়া যেন এক একটি অধ্যায়ের ইতি।

জ়ুবিন গার্গ
শুধু গায়ক নন, জ়ুবিন গার্গ ছিলেন একটি সময়ের কণ্ঠস্বর। অসমীয়া, বাংলা, হিন্দি— একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন শ্রোতাদের মনে। ‘গ্যাংস্টার’ ছবির ‘ইয়া আলি’ গান তাঁকে দেশজোড়া পরিচিতি দেয়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও নিজের মাটির টানে মুম্বই ছেড়ে অসমে ফিরে যান তিনি। ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু গোটা অসমকে স্তব্ধ করে দেয়। আজও তাঁর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত চলছে।

ধর্মেন্দ্র
নভেম্বরের ২৪ তারিখে বলিউড হারায় তার ‘হি-ম্যান’কে। ছ’দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, ৩০০-র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন— তাঁর চলে যাওয়া যেন এক যুগের অবসান। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ মুক্তি পাবে ২০২৬ সালে।

শেফালী জরীওয়ালা
‘কাঁটা লাগা’ গানের সেই ঝলমলে মুখ, যিনি এক প্রজন্মের স্মৃতিতে চিরকাল রয়ে যাবেন। মাত্র ৪২ বছর বয়সে হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয় শেফালীর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা ইন্ডি পপ প্রজন্ম।

আসরানী
অক্টোবরে ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন গোবর্ধন আসরানী। ‘শোলে’-র ‘জেলার’ চরিত্র আজও কালজয়ী। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও ফুসফুসের সংক্রমণ কেড়ে নেয় এই জনপ্রিয় অভিনেতার প্রাণ। নীরবে চলে যাওয়াই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছে।

মুকুল দেব
নায়ক হিসেবে শুরু হলেও ভাগ্য তাঁকে পার্শ্বচরিত্রেই আটকে রাখে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতার মধ্যেই ৫৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন মুকুল দেব। তাঁর মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দেয়, আলো-ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালেও কতটা একা হয়ে পড়তে পারেন তারকারা।

পঙ্কজ ধীর
‘মহাভারত’-এর কর্ণ চরিত্রে যাঁকে দর্শক আজও মনে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ১৫ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পঙ্কজ ধীর। বয়স হয়েছিল ৬৮।

প্রতুল মুখোপাধ্যায়
‘আমি বাংলায় গান গাই’— এই গানেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। বছরের শুরুতেই, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই গায়ক। যন্ত্র ছাড়াই গান গাওয়ার তাঁর অভিনব ভঙ্গি চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।

জয় বন্দ্যোপাধ্যায়
নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক। সাফল্যের আলো ফুরিয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত টানাপড়েন ও অসুস্থতার মধ্যেই ২৫ অগাস্ট ৬২ বছর বয়সে প্রয়াত হন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ জীবন কাটে প্রচারের আড়ালে।

কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়
পার্শ্বচরিত্রে থেকেও যিনি নিজের অভিনয় দক্ষতায় আলাদা ছাপ ফেলেছিলেন। তপন সিংহ থেকে সত্যজিৎ রায়— বহু কিংবদন্তি পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৭ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন এই শক্তিশালী অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ ‘ভালো থেকো বান্ধবী…’- শ্রাবণী বণিকের প্রয়াণে আবেগ ভরা খোলা চিঠি ঋতুপর্ণার! প্রিয় বান্ধবীকে নিয়ে কি লিখলেন অভিনেত্রী?

২০২৫ আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল, খ্যাতি, সাফল্য, আলো— সবই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু তাঁদের কাজ, তাঁদের স্মৃতি থেকে যাবে দর্শকের মনে, ঠিক যেমন আলো নিভে গেলেও তার উষ্ণতা থেকে যায় অনেকক্ষণ।

Back to top button