‘ভালো থেকো বান্ধবী…’- শ্রাবণী বণিকের প্রয়াণে আবেগ ভরা খোলা চিঠি ঋতুপর্ণার! প্রিয় বান্ধবীকে নিয়ে কি লিখলেন অভিনেত্রী?

দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে থেমে গেল অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিকের জীবন। ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে বহুদিন ধরে যুঝে সোমবার চিরবিদায় নেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ টলিউড। সহকর্মী থেকে শুরু করে অনুরাগী সকলের মনেই নেমে এসেছে গভীর বিষাদ। অভিনয় জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা শ্রাবণী ছিলেন পরিচিত মুখ, যাঁর অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব দুটিই সমানভাবে ছুঁয়ে যেত মানুষকে। তাঁর মৃত্যু যেন ইন্ডাস্ট্রির এক নীরব আলো নিভে যাওয়া।

শ্রাবণীর প্রয়াণ সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। এক সময়ের সহঅভিনেত্রী এবং ব্যক্তিগত বন্ধুর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তরুণ মজুমদার পরিচালিত আলো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দুজন। সেই কাজের সূত্রেই তৈরি হয়েছিল এক গভীর সম্পর্ক, যা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়। শ্রাবণীর মৃত্যুতে সেই স্মৃতিগুলোই আজ বারবার ফিরে আসছে ঋতুপর্ণার মনে।

মনের সেই কষ্ট আর না বলা কথাগুলো প্রকাশ করতেই কলম ধরেছেন ঋতুপর্ণা। শ্রাবণীর উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক। তিনি লিখেছেন, শ্রাবণী ছিলেন উজ্জ্বল অথচ শান্ত স্বভাবের মানুষ। নিজের কাজে ছিলেন দায়িত্ববান, অথচ প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। তাঁর মনের সৌন্দর্য, কর্তব্যপরায়ণতা আর সংযত আচরণ বারবার মুগ্ধ করেছে ঋতুপর্ণাকে।

অসুস্থতার সময়েও তাঁদের যোগাযোগ ছিন্ন হয়নি। শ্রাবণী তাঁর সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট ঋতুপর্ণাকে পাঠাতেন। সেই রিপোর্ট নিয়ে ঋতুপর্ণা বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, বন্ধুর জন্য যতটা সম্ভব সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। প্রতিদিন দেখা না হলেও দুজনের মধ্যে যে গভীর মনের যোগাযোগ ছিল, সেটাই আজ সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে অভিনেত্রীকে।

আরও পড়ুনঃ ‘সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই চোখ ভিজে আসে’- শৈশবের কোন স্মৃতি আজও কাঁদায় ইমনকে?

চিঠির শেষ ভাগে ঋতুপর্ণার আবেগ যেন আরও স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, শ্রাবণীর ছেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর মতে, আপনজন হতে প্রতিদিন সামনে থাকা জরুরি নয়, হৃদয়ের জায়গায় থাকলেই যথেষ্ট। মেঘের আড়ালে চলে গেলেও বন্ধুকে চিঠি লিখে যাবেন তিনি। যন্ত্রণামুক্ত হয়ে আকাশে মুক্তির স্বাদ নেওয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন শেষ বিদায়।

Back to top button