‘যারা মনে করছ নিজেদের শেষ করে দেওয়া উচিত, তারা একবার…’ জীবন নিয়ে হতাশ যারা তাদের জন্য বিশেষ বার্তা টলিউড কুইন কোয়েল মল্লিকের!

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick) গত দুই দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা হিসেবে রুপোলি পর্দায় পা রাখলেও, নিজের অসামান্য অভিনয় দক্ষতা এবং স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি দর্শকদের মনে এক আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ ছবির মাধ্যমে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি একের পর এক বাণিজ্যিক ও কন্টেন্ট-নির্ভর সফল ছবি উপহার দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিসপাল সিং রানের ঘরণী এবং এক পুত্রসন্তানের জননী, যিনি সমান তালে ঘর ও কেরিয়ার সামলে চলছেন।

সম্প্রতি একটি বিশেষ ভিডিওতে কোয়েল মল্লিক তার অভিনীত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘হেমলক সোসাইটি’ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত এই ছবিটি ২০১২ সালে মুক্তি পেয়েছিল এবং বাংলা সিনেমার ধারায় এক নতুন মোড় এনেছিল। ছবিতে কোয়েলের চরিত্রের নাম ছিল মেঘনা, যা তার অভিনয় জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা হিসেবে গণ্য করা হয়। জীবনের অন্ধকার দিক এবং মৃত্যুকে জয় করার এক অদ্ভুত দর্শন এই ছবির মূল উপজীব্য ছিল।

এই ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান যে, ‘হেমলক সোসাইটি’ আজও সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ের জটিলতা এবং মানসিক চাপের মধ্যে এই ছবির গুরুত্ব মোটেও কমেনি। বিশেষ করে যারা জীবন নিয়ে হতাশ বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তাদের জন্য এই ছবি একটি বিশেষ বার্তা বহন করে। কোয়েলের মতে, ছবিটির প্রতিটি পরতে এক গভীর জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে যা দর্শকদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।

ভিডিওটিতে কোয়েল তার সেই সময়ের লুক বা সজ্জা নিয়েও একটি মজার তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, এই ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে তার চোখের কাজল কিছুটা লেপটে থাকা বা ‘স্মাজড’ অবস্থায় রাখা হয়েছিল, যা মেঘনা চরিত্রটির মানসিক অবস্থাকে ফুটিয়ে তুলেছিল। কোয়েল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন যে, একমাত্র এই ছবিতেই তার চোখের কাজল ওইভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল যা চরিত্রটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছিল। এই ছোট ছোট খুঁটিনাটি বিষয়গুলোই আজও তার মনে গেঁথে আছে।

আরও পড়ুন: কাজের বদলে কুপ্রস্তাব! টেন্ট মিডিয়ার কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে মানসিক ও পেশাগত হে’নস্থার অভিযোগ জনপ্রিয় অভিনেত্রীর!

পরিশেষে অভিনেত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, যারা জীবনে চরম হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বা যাদের মনে আত্মহত্যার মতো নেতিবাচক চিন্তা কাজ করে, তাদের জন্য এই ছবির পরামর্শগুলো আজও সমানভাবে কার্যকর। ‘হেমলক সোসাইটি’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এটি জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার একটি মাধ্যম হিসেবে তার কাছে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। কোয়েলের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি তার কাজের সামাজিক গুরুত্বকে কতটা গভীরভাবে অনুভব করেন।

Back to top button