দু’বার বিয়ে করেও জোটেনি ‘মা’ ডাক! এই নিঃসঙ্গ জীবনে কিভাবে দিন কাটাচ্ছেন ইন্দ্রানী হালদার?

‘শ্রীময়ী’ (Sreemoyee) বাংলার টেলিভিশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র, যা আজও দর্শকদের মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। এই শ্রীময়ী’ই আবার ছিল ৯০-এর দশকের সুপারহিট নায়িকা। একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছে বাংলার দর্শকদের, অভিনেত্রীর নাম ইন্দ্রানী হালদার (Indrani Haldar)

অভিনেত্রী ইন্দ্রানী টলিউডসহ বলিউডেও রয়েছে বহু অনুরাগী, যাঁরা আজও অভিনেত্রীর অভিনয়ে মুগ্ধ। অভিনেত্রী তার কর্মজীবনে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিগত জীবন ততটাও সুখের হয়নি বলে মনে করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রীর নাচ এবং অভিনয়ের প্রতি বিশেষ টান থাকায় বিনোদন জগতের হাত ধরেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে জীবনী নেয় ইন্দ্রানী।

শোনা যায়, ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেতেন তিনি কিন্তু মা কখনোই রাজি ছিলেন না। লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অভিনয় জগতে পা রাখতে দেয়নি। পড়াশোনার জগতে ইতি টেনে ১৯৮৬ সালে ডিডি বাংলার ধারাবাহিক ‘তেরো পার্বণ’-এর হাত ধরে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেন ইন্দ্রানী হালদার। এই ধারাবাহিকের পরেই অভিনেত্রী সোজার সুযোগ পায় বড় পর্দায় অভিনয় করার।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে ১৯৯০ সালে ‘মন্দিরা’ সিনেমাতে বড় পর্দায় অভিনয় করার সুযোগ পান। একই বছরে আরও পরপর দুটি সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পান ইন্দ্রানী। এরপর থেকে আর কখনোই অভিনেত্রীকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে গেছে সিনেমা প্রেমীদের। ‘দান প্রতিদান’, ‘শ্বেত পাথরের থালা’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘আপন হল পর’, ‘জামাইবাবু’ আরো অনেক সিনেমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন সকলের প্রিয় শ্রীময়ী।

আড়ও পড়ুনঃ “সারাদিন কাজ করে কে’লিয়ে পড়েছি”- পরিচালকের সামনে অভিযোগ অভিনেতা ভাস্বরের❗

একটা সময় টলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউড জগতের হিন্দি সিরিয়ালে অভিনয় করেন ইন্দ্রানী। কয়েক বছর আগে পর্যন্তও বাংলার টেলি জগতে দীর্ঘ মেয়াদি হিট সিরিয়ালে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। জি বাংলার ‘গোয়েন্দাগিন্নি’ এবং স্টার জলসার ‘শ্রীময়ী’ ধারাবাহিক অভিনেত্রীকে ধারাবাহিকের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

এত সফলতার পরেও অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে আসে অনেক ঘাত প্রতিঘাত। অভিনয় জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিনেত্রী সঞ্জীব দাশগুপ্তর সঙ্গে লিভ ইন’ সম্পর্কে ছিলেন। তবে, সেই সম্পর্ক না টিকে থাকায় ৯৩ সালে প্রযোজক অমরেন্দ্র ঘোষকে বিয়ে করেন ইন্দ্রানী। প্রযোজক স্বামীর অভিনেত্রীর অভিনয় আপত্তি থাকায় বিয়ের অল্প দিনের মধ্যেই বিচ্ছেদ ঘটে সেই সম্পর্কে। বিবাহ বিচ্ছেদের বহু বছর বাদে ভাস্কর রায়কে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। পেশায় বিমান চালক অভিনেত্রীর বর্তমান স্বামী। সুখী দাম্পত্য জীবন হল রয়ে গেছেন তারা নিঃসন্তান। মূলত ‘কাজ পাগল’ অভিনেত্রী আজীবন নিজের পেশাকে এতটাই সময় দিতে ব্যস্ত ছিলেন যে একটা সময় পর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততদিনে বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল ৪০। ফলত, আর মা ডাক শোনা হয়নি তাঁর। ছোট বাচ্চাকে দস্তক নেওয়ার কথা ভাবলেও নারাজ ছিলেন ভাস্কর। অবশেষে নির্দ্বিধায় একটা কথা বলা যেতে পারে, ইন্দ্রানী পেশায় অভিনেত্রী হওয়ার দরুণ নিজের জীবনের না পাওয়ার আক্ষেপগুলো অনায়াসে হাসি দিয়ে দুনিয়ার কাছে লুকিয়ে রাখেন নিজের যন্ত্রণা।

Back to top button