‘বাবা-মায়ের সামনেই মার’ধর করত শমীক, আমার চোখে এমন ভাবে মেরেছে…’ বিস্ফোরক দাবি নি’র্যাতিতার! আর কি কি বললেন তিনি?

বাংলা ইউটিউব দুনিয়ার পরিচিত মুখ শমীক অধিকারী, যিনি নেটিজেনদের কাছে ‘ননসেন’ (Nonsane) নামে জনপ্রিয়, তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এক তরুণীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দমদম এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বেহালা থানার পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী এক তরুণী বৃহস্পতিবার সকালে বেহালা থানায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, গত ২ এবং ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বেহালার একটি ফ্ল্যাটে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছিল। ওই দুই দিন ধরে তাঁর ওপর চলে অমানবিক শারীরিক নিগ্রহ ও যৌন হেনস্থা। তরুণীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ইউটিউবার তাঁকে কেবল শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতই করেননি, বরং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রেখে চরম মানসিক নির্যাতনও চালিয়েছেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে বেহালা থানার পুলিশ। অভিযুক্তর টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে জানা যায় তিনি দমদম এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিশেষ অভিযানে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারিণীর বয়ানের ভিত্তিতে শমীকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার ১২টায় তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে।
শমীক অধিকারী ওরফে ‘ননসেন’ মূলত রোস্টিং এবং কমেডি কন্টেন্টের জন্য পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা কয়েক লক্ষ। তাঁর এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়া মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর কন্টেন্টে অনেক সময় নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এমন গুরুতর অপরাধমূলক কাজে তাঁর নাম জড়ানোয় হতবাক নেটিজেনদের একাংশ।
পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ওই তরুণীর সঙ্গে শমীকের আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছিল কি না। বেহালার ওই ফ্ল্যাটটিতে তল্লাশি চালিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর বয়ান ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রেকর্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এই জনপ্রিয় ইউটিউবার।
আরও পড়ুনঃ সংসার ভাঙার নেপথ্যে কি ঈশান মিত্র? নীরবতা ভেঙে জয়জিতের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রাক্তন স্ত্রীর!
সাক্ষাৎকারে নির্যাতিত দাবি করেছেন, নির্যাতনের সময় শমীকের বাবা-মাও ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের সামনেই তাঁর ওপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁকে বেহালার ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়েছিল, তখন সেখানে শমীকের বাবা-মাও ছিলেন। তরুণীর দাবি অনুযায়ী, শমীক যখন তাঁকে মারধর এবং শারীরিক নিগ্রহ করছিলেন, তখন তাঁর বাবা-মা বাধা দেওয়া তো দূরের কথা, বরং নীরব দর্শক হয়ে ছিলেন। শমীক তাঁর ওপর চরম আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতেন। তুচ্ছ কারণে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারা থেকে শুরু করে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। তরুণীর কথায়, ‘নিজের বাবা-মায়ের সামনেই আমাকে ও মারত, কেউ আটকাতে আসেনি।’ এই বয়ান সামনে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন শিক্ষিত পরিবারের সন্তান এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে শমীক কীভাবে এই স্তরে নামতে পারলেন।

