‘ওখানে না কি টাকার খেলা চলে!’ – সারেগামাপার ফাইনালে পৌঁছেও ছিটকে গেলো খুদে আরাত্রিকা! সত্যিটা ফাঁ’স করে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিলেন শিল্পীর বাবা!

সম্প্রতি কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে জি বাংলার (Zee Bangla) সবচেয়ে বড় গানের রিয়েলিটি শো (Reality Show)। বাংলার রিয়েলিটি শো গুলির মধ্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো সারেগামাপা (Saregamapa)। দীর্ঘ কয়েক বছর বয়সে এই রিয়েলিটি শো হচ্ছে জি বাংলার পর্দায়। প্রতিটি সিজনেই দর্শকদের জন্য থাকে নতুন নতুন চমক। দূর দূর থেকে প্রতিযোগীরা আসে তাদের প্রতিভা ফুটিয়ে তোলার জন্য।
সেরকমই চলতি সিজনে একজন ট্যালেন্টেড প্রতিযোগী হলো আরাত্রিকা। অসাধারণ গানের গলা তার, যেন স্বয়ং মা সরস্বতীর বাস, মেয়েকে নিয়ে ভীষণই গর্বিত আরাত্রিকার বাবা। প্রতিটা মেয়েই তার বাবার নয়নের মণি। প্রতিটা এপিসোডেই দর্শকাসনে বসে সগৌরবে শুনেছেন আরাত্রিকার গান। এবার ফাইনালের পর, মেয়েকে নিয়ে বিশেষ পোস্ট করলেন সৌম্য।
আরাত্রিকার বাবা ফেসবুকে মেয়ের জন্য লেখেন, ‘মানি, তোকে বাঁকুড়া বইমেলায় গান গায়তে দেয়নি, খাদ্যমেলাতেও তোর নাম থেকেও বাদ গেছে, তথ্য সংস্কৃতি দফতর হয়তো জানেই না তুই গান করতে জানিসl সবটা শুধু দেখে গেছিl কিন্তু তোর উপর ছিল আমার অগাধ আস্থা ,আমি জানতাম তুই কি পারিস আর কি পারিস না! আমার সাথে দেখা হলে দারুন হেসে গদগদ হয়ে কথা বলে এরকম অনেক মানুষ তোর গানে কোনোদিন লাইক কমেন্ট করেনিl দেখতাম সবকিছুইl পাত্তা সেদিনও দিইনি ,আজও দিই নাl আসলে আমার নিজের উপরও সাংঘাতিক আস্থা আছে l আমি জানি কার দ্বারা কি হয়, আর হয় না!’
আরাত্রিকার বাবাও একজন শিল্পী, তিনি আবৃত্তিকার। ছোট থেকেই সুর মেয়ের গলাতে। বাড়ির লোক বুঝতে পেরে, ভর্তি করে দিয়েছিল এলাকারই গানের স্কুলে। এখন তো সারা বাংলার দর্শকের মনে জায়গা করেছেন আরাত্রিকা। সেই নিয়েই সৌম্য লিখলেন, ‘অনেকে তোকে গণসঙ্গীত শিল্পী বলে দাগিয়ে দিয়েছিল ,তোর পিঠে সেঁটে দিয়েছিল পার্টির স্ট্যাম্প। কিন্তু অনেককেই ভুল প্রমাণ করবি – সেই বিশ্বাস আমার ছিল। এপ্রিল মে মাসের গরমে যখন তোকে নিয়ে তিন দিন অন্তর যখন ছুটছি #zeebanglasaregamapa-র অডিশনে, তখন ভাবতাম একটা অন্তত একটা গান যদি তুই ওই মঞ্চটাতে গাইতে পারিস, আমার খুব ভালো লাগবে। একটার পর একটা এপিসোডের হার্ডল টপকে তুই যখন ফাইনালে উঠলি, তখনও অনেক বিদগধ মানুষের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে ওখানে না কি টাকার খেলা চলে! মনে মনে কেবল হেসেছি।’
আরও পড়ুনঃ মহাকুম্ভের পুণ্যস্থানে পাপ! ভয়ংকর বিপদের মাঝে শিরিন! ত্রিশূল দিয়ে শয়তানদের দেহ ছি’ন্নভিন্ন করে দিল পারুল!
তিনি আরও বলেন ‘মনে মনে কেবল হেসেছি l ভেবেছি তোর জন্য কলকাতা বারবার আসা যাওয়া করতে গিয়ে কখনো বাবার কাছে পাঁচ হাজার নিয়েছি ,কখনো ছোট পিসির কাছ থেকে দুই হাজার নিয়েছি! আসলে একদল মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি বাঁকুড়া শহরের ভাদুল গ্রামের একটা মেয়ে কোনো সঙ্গীতের ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্বেও এত দূর যায় কি করে! আসলে তারা তো জানে না তুই কথা বলা আর গান করা একসাথে শিখেছিলিস, তারা তো জানে না তোর গানের জন্য তোর মা, পেটে আহিকে (আরাত্রিকার বোন) নিয়ে বমি করতে করতে চার বছর কলকাতা গেছে ট্রেনে করে, বাসে করে! তারা তো জানে না তোর দদন, মামমাম সারাদিন তোর সঙ্গে গান নিয়ে আলোচনা করত। তুই অনেককে ভুল প্রমাণ করতে পেরেছিস বলেই আমি খুশি l’ প্রথম তিনে জায়গা করে নিতে না পারলেও কালিকাপ্রসাদ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাঁকুড়ার মেয়ে, খুদে কমরেড আরাত্রিকা।

