কারোর দায় নেই, আমি নিজেই দায়ী! ক্ষমা চাইলেন মাদকাসক্ত নোবেল

জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো গুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো সারেগামাপা (Saregamapa)। এই রিয়েলিটি শো তে প্রতি বছর কত কত ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়েরা নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলে। সেরকমই সারেগামাপা এর একটি সিজনে অংশগ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের এক প্রতিযোগী মাইনুল আহসান নোবেল (Mainul Ahsan Noble, Singer)।

নোবেলের কথা নিশ্চয়ই আশা করি নতুন করে আর কিছুই বলার নেই। সারেগামাপা এর মঞ্চ থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন নোবেল। বাংলাদেশ-ভারত সব জায়গাতেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে গায়ককে নিয়ে কম তর্ক বিতর্ক হয়নি। গায়কের জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর থেকেই তার স্বভাব চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গায়কের অভদ্র ব্যবহার মানুষকে তার বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীকে মারধর, মারাত্মক মদ্যপ নেশা, মদের ঘোরে ভাঙচুর, টাকা নিয়ে শো করতে না যাওয়া, একাধিক অভিযোগ উঠেছিল গায়কের বিরুদ্ধে। এমনকি নোবেলের নতুন সম্পর্কে জড়ানোর গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল মাঝে। মেয়েটি জানিয়েছিলেন, মদ খাইয়ে তাঁকে দিয়ে জোর করিয়ে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছবি তুলিয়েছিল নোবেল।

দীর্ঘদিন বাদে সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন নোবেল

এই ধরনের নানা অভিযোগের পর থেকেই গায়ক একেবারে গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন। জনপ্রিয়তা পাওয়ার শুরুতেই তার এই ধরনের আচার-আচরণ তাকে একেবারে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। অবশেষে নিজের অধঃপতনের নিয়ে মুখ খুলেছেন নোবেল। সম্প্রতি বাংলাদেশের সাক্ষাৎকারে এই সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনি। নোবেলের কথায়, ‘একটা আসক্তিতে পড়ে গিয়েছিলাম। এখন আমি এগুলো থেকে বিরত আছি, সম্পূর্ণরূপে বিরত। সেখানে আমার আর ফিরে যাওয়ারও ইচ্ছে নেই। এখানে কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই, সবকিছুর জন্য আমিই দায়ী। অনেকের থেকে দূরে সরে যাওয়ায় একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় সবার সাথে। আমার সেসব ভুল ছিল। ইন্ডাস্ট্রিতে যারা আমাকে দিয়ে কাজ করাতেন তাদের সঙ্গেও আমার একটা দূরত্ব তৈরি হয়।, ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। যার কারণেই আমি গায়েব হয়ে গিয়েছিলাম।’

নোবেল আরও জানান ‘মানুষ আমার কাছে যা প্রত্যাশা করেছিল, আমি সে অনুযায়ী চলতে পারিনি। আমার প্রফেশন গান গাওয়া, গান থেকেই মানুষ আমাকে চিনেছে। তবে আমার যে ভুলভ্রান্তি গুলো ছিল। কাজ ছাড়া আমাকে কেউ মনে রাখবে না, মনে রাখেনি। তাই এবারের ফিরে আসার যুদ্ধ শুধুই আমার একার। কারণ শাস্তি যা পাওয়ার আমি পেয়েছি। এখন এই ভুলগুলো শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। কিছু উদ্ভট কথাবার্তা এখন এসব থেকে নিজেকে বিরত রাখি, তাহলে আমার চলার পথটা আরও সহজ হবে।’

আরও পড়ুন: বিয়েই কি তবে কাল হয়ে দাঁড়ালো অভিনেত্রীর জীবনে? কোথায় হারিয়ে গেল তিতলি?

উল্লেখ্য সারেগামার মঞ্চে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন গায়ক। বিচারকদের কাছেও পেয়েছিলেন অনেক ভালোবাসা। নোবেলের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিল ছোট থেকে বড় সকলে। এই দেশে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানও করেছেন তিনি। তবে তার হঠাৎ এমন অবনতি কেন হয়েছিল সেটা জানা যায়নি।

Back to top button